আজ : ০১:৪৫, নভেম্বর ১৬ , ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

মা, মাটি ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র


আপডেট:১২:৫০, অক্টোবর ১১ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজিজঃ শিরোনামটি নিয়ে আলোচনার আগে যুক্তরাজ্যের ‘গাভী’ সমাচার নিয়ে কিছু আলোকপাত করা যাক। ৮০ দশকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লৌহমানবী বলে খ্যাত মার্গারেট থেচার। তখনকার সময়ে বিলেতের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদেরকে বিনামূল্যে দূধ বিতরন করা হতো। লৌহমানবী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় বসে আচমকা ছোট ছোট শিক্ষার্থীদেরকে ‘ফ্রি’ দূধ বিতরন বন্ধ করে দেন। ফলে ছাত্রছাত্রী ও অবিভাবকদের মাঝে বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠে। ইতোমধ্যেই তিনি এক বিদ্যালয়ে সফর করেন এবং ছাত্র শিক্ষকদের উদ্যেশ্যে বক্তৃতা করেন। এই সভাতেই এক ছাত্র দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন যে, একজন মা হয়ে, তিনি কি করে নিজের সন্তানদেরকে অর্থাৎ কোমলমতি শিশুদের দূধ সরবরাহ বন্ধ করতে পারেন? ছাত্রের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী হতভম্ব হয়ে পড়েন। তিনি তার ব্যাক্তিগত সচিবকে প্রশ্নকারী ছাত্রটির পরিচয় নিতে এবং তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ করেন। উল্লেখ্য যে, ঐ ছাত্রটি পরবর্তিকালে যুব কনজারভেটিভ নেতা এবং এমপি নির্বাচিত হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি হলেন উলিয়াম হেইগ। যিনি পর্যায়ক্রমে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়ীত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখিত ঘটনাটি অবতারনার উদ্যেশ্য হলো, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী দুজনেই মহিলা ও মা। জ্ঞানী, গুনী, মানবহিতৈষী, শান্তিপ্রিয়, দেশপ্রেমিক শ্রদ্ধাভাজন মনিষীগণ বলে গেছেন, দেশ ও মানুষকে ভাল না বাসলে, দেশ এবং মানুষের সেবার প্রেরণা জাগে না। সেবার সদিচ্ছা না থাকলে, দেশ ও মানুষের প্রতি জবাবদিহীতা না থাকলে নিঃস্বার্থভাবে সেবার জন্য এগিয়ে আসা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ভালবাসাই মানুষকে কল্যাণকামী করে। দেশ সেবার প্রেরণা জোগায়। মা যেমন সন্তানকে ভালবাসে বলেই তার জন্য জীবন দিতে রাজি থাকে তেমনি যারা মানব সমাজকে ভালবাসে, দেশকে ভালবাসে তারাও দেশ ও মানুষের সেবায় আত্মোৎসর্গ করে দেশ ও মানুষের কাছে আলোকিত নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষমতার আসনে বসা মা জাতি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি কি শিক্ষা গ্রহন করছে?

কথায় কথায় আমরা বলি, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। তোমার আমার ঠিকানা , পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। বাস্তবে কি জাতি তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে? না, এক মা নিজের কর্তৃত্ব প্রসারিত করার লক্ষ্যে নির্দয়ভাবে আরেক মায়ের বুক খালি করছেন। বঙ্গ সন্তানদের প্রাণ হরণ করে চলেছেন। কথা বলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। প্রতিবাদকারী সন্তানদের উপর চালাচ্ছেন নির্যাতন নিপীড়ন। লৌহপ্রাচীরে বন্দী করে রাখা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ বঙ্গ সন্তানদেরকে। উন্নয়নের নামে পুঁজিবাদী শক্তির স্বার্থে গড়ে উঠা শিল্পস্হাপনার বিষাক্ত বৈর্জ্য দিয়ে আমাদের ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুড়িগঙ্গা, তিতাশ, সুরমা, কুশিয়ারা সহ নদীমাতৃক দেশের সকল নদীর পানি দূষন করে চলেছেন। সর্বোপরি প্রাকৃতিক দূর্যোগ সিডর, আয়েলা, নার্গিসের মরন ছোবল থেকে বাঁচানোর জন্য যে সুন্দরবন নিজের বুক পেতে জনপদকে রক্ষা করে, সেই বৈতিত্রময় বন্ধু সুন্দরবনকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সন্তানদের ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠির মতামতকে অগ্রাহ্য করে সেখানে বিদেশীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য রামপাল তাপবিদ্যূৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় মা নেতৃত্ব ও ক্ষমতাসীন মা ও ভীনদেশীদের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন এবং দাতাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা অব্যাহত রেখেছেন । এদের মাঝে জনদরদ ও দেশপ্রেম আপ্তবাক্য বলেই মনে হয়। ক্ষমতার মোহে মায়ের পদতলে বেহেস্ত মহান সৃষ্টিকর্তার ঐশী বাণীটি দু'জনেই ভূলে গেছেন।

ক্ষমতার দাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লৌহমানবী মার্গারেট থেচারও সৃষ্টিকর্তার ঐশীবাণীটি ভূলে গিয়েছিলেন। তিনি কয়লা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে Horse Battalion দিয়ে নির্বিচারে অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন। গরীব মারার জন্য Poll tax চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তার নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ব্রিটিশ সন্তানেরা বিদ্রোহ করে উঠেছিল। এমনি পরিস্হিতিতে একদিন সকালে তারই দলের এক এমপি হাউজ অব কমন্সে যাওয়ার পথে আরেক এমপি’র সাথে ফোনে কথা বলার সময় একে অপরকে জিজ্ঞেস করেছিল, এই গাই মানে গাভীটি কবে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবে? এমপিদের কথোপকথনটি মোটরওয়ের পাশে অবস্হিত একটি রেডিও ষ্টেশন রের্কড করে ফেলে। এবং সাথে সাথে রেডিওতে সম্প্রপ্রচার করে ফেলে। মুহুর্তের মাঝে হাউজ অব কমন্স (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট) সহ সারা দেশে আন্দোলনরত জনতা রাস্তায় নেমে পড়ে। পার্লামেন্টেও ঘাপটি মেরে থাকা মার্গারেট থেচার বিরোধী এমপিগণ গর্ত থেকে বেরিয়ে হুঙ্কার দেওয়া শুরু করেন। মাত্র কয়েকদিনের মাঝেই লৌহমানবী মার্গারেট থেচারকে ১০ নম্বর ডাউনিং ষ্ট্রীট থেকে বিতাড়িত করেন।

আমরা চাই না বাংলাদেশের মাটি, নদী, পানি, সুন্দরবন বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বঙ্গ সন্তানেরা মা জাতি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নের্তৃদেরকে গাভীর সাথে তুলনা করে বিদ্রোহ করুক। বরং মা যেমন সন্তানদেরকে ভালবাসে বলেই তাকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিতে দ্বিধা করেনা। তেমনি প্রয়োজনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা তথা দেশের মাটি, নদ-নদী ও ছায়াঘেরা পশু পাখির অভয়ারৈণ্য বৈচিত্রময় সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ভূমিকা নিবেন। কারন জগত শুধু মানুষের নয় জগতের সব জীবের, সব প্রাণীরই বাঁচার, মানুষের সাথে সহ অবস্থানের অধিকার রয়েছে। গণধিকৃত হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে মানুষ ও দেশের সেবায় আত্মোৎসর্গ করে জাতীর কাছে আলোকিত নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকার উদ্যোগ নিবেন বলে বিশ্বাস করি। নোবেল প্রাপ্তির আশায় পুঁজিবাদীদের কাছে পদানত না হয়ে নিজেদের ১৬ কোটি সন্তানের জীবন তথা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, নদ-নদী-নালা সুন্দরবন সহ গণমানুষের এবং দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করবেন।

মমতাময়ী মা’দের কাছে সেটাই জাতির প্রত্যাশা।

লেখকঃ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক সমালোচক

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত শায়মা জামানের এক্সিবিশন

photo স্পেশাল রিপোর্টারঃ লন্ডনের বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামের উদ্যোগে ' ডিফরেন্স বিলিভ এন্ড ডিফরেন্স রিলিজন ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক মানের এক প্রতিযোগিতায় একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ মেয়ে শায়মা জামান উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় তিন বছর নানা বাছাই পর্বের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়। ছয়টি ক্যাটাগিরিতে এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে ধর্ম, বিশ্বাস ও সফলতা। শায়মা জামানের বিষয় ছিল, ইসলাম,

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment