আজ : ১১:৩৬, মে ৩০ , ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শিরোনাম :

এর পরেও আওয়ামী নেতা মাহবুব হানিফের সন্দেহ?


আপডেট:০৩:৫৩, অক্টোবর ১৪ , ২০১৭
photo

মোবায়েদুর রহমানঃ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা চলে গেলেন। চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। তার সাথে যাওয়ার কথা ছিল তার পত্মী মিসেস সুষমা সিনহার। তার ভিসাও করা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি। তিনি কেন যাননি, সেটি স্পষ্ট জানা গেল না। কেউ কেউ লিখেছেন যে ইমিগ্রেশন নাকি তাকে আটকে দিয়েছে। সেটিও কনফার্মড হয়নি। আমিও এই বিষয়টি নিয়ে ওয়াইলড গেজ করবো না। বাবু সিনহা যাওয়ার আগে বলে গেলেন, তিনি অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ্। অথচ আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের মুখে আমরা সরকারিভাবে শুনেছিলাম, তিনি অসুস্থ। যে সে অসুখ নয়, একেবারে ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রিয় পাঠক, চিন্তা করুন ক্যান্সার, যে রোগের মরণ ছোবল থেকে কম রোগীই ফিরে আসতে পারেন। আর সেই রোগী স্বয়ং বলছেন যে তিনি সুস্থ।
যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি সিনহা সাংবাদিকদের কাছে মিনিট দুয়েক কথা বলেছেন। আর তাদের কাছে একটি লিখিত কাগজ দিয়ে গেছেন। সেই কাগজের ফটোকপি অনেকগুলি দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। আপনারা সকলেই এগুলি দেখেছেন এবং পড়েছেন। আমি তাই সেই বক্তব্য এবং বিবৃতি এখানে রিপিট করবো না। কিন্তু সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের এক শ্রেণীর নেতা যা বলেছেন সেটি বিরাজমান উত্তপ্ত পরিবেশকে আরো উত্তপ্ত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা বলেছেন যে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য হতাশা ব্যঞ্জক এবং এই বক্তব্য নাকি দেশে আরো অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম এবং সহকারী জেনারেল সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি।
প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজ্জাকের মতে প্রধান বিচারপতির বিবৃতি এবং বক্তব্য হতাশাজনক। সেটি আওয়ামী লীগের জন্য হতেই পারে। কারণ তারা এতদিন ধরে প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ এবং তার অসুখকে ক্যান্সার বলে চালিয়ে দিলেন। অথচ খোদ প্রধান বিচারপতি বলছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। রেজাউল করিম বলেছেন,প্রধান বিচারপতি ছুটির দরখাস্তে বললেন, তিনি অসুস্থ। আর এখন বলছেন সুস্থ। কিন্তু রেজাউল করিম সাহেব ভুলে যাচ্ছেন কেন যে, তিনি যে অসুস্থ সেটি এদেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ প্রথম থেকেই বিশ্বাস করেনি। এমনকি তার ছুটির দরখাস্তও কে লিখেছে সেটি নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তার স্বাক্ষর নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বিতর্ক সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী। কারণ তারা এমন সব উদ্ভট কথা বলেন যেগুলো মানুষ মোটেই গ্রহণ করতে পারে না। যেমন অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পূর্বাহ্নে প্রধান বিচারপতি সিনহা যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন সেটির ব্যাপারেও হানিফ সাহেব সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন তার লিখিত বক্তব্য অন্য কেউ ছড়িয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এটি খতিয়ে দেখার কি আছে? বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ গত শুক্রবার রাতে টেলিভিশনে দেখেছেন যে বিচারপতি সিনহা নিজের হাতে তার স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এই ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে শনিবার ইংরেজী ডেইলি স্টারের প্রথম পৃষ্ঠায়। এই ছবিটি আমি এখানে তুলে দিলাম। এখন পাঠক ভাইয়েরা বলুন, এর পরেও কি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে? আপনারা কি এটি টেলিভিশনে দেখেননি?
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে আরো বলেছেন, “আমি অসুস্থ না। বিচার বিভাগ যাতে কলুষিত না হয় সে জন্য সাময়িকভাবে আমি যাচ্ছি। বিচার বিভাগ যেন বিব্রত না হয়। আমি আবার ফিরে আসবো”। তার এই বক্তব্য অনেকটাই জীবনান্দ দাসের কবিতার সেই চরণগুলির মত, “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়” ।
বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণ অসাম্পদায়িক। প্রগতির আলখেল্লা পরা কতিপয় সেক্যুলার এবং বাম এলিমেন্ট বরং মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি দেয়। সিনহা বাবুর ক্ষেত্রে বাংলার কোটি কোটি মানুষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছেন যে তারা কতখানি অসাম্প্রদায়িক। সিনহা বাবু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে বাংলার কোটি কোটি মানুষ তার পেছনে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এখনো আছেন। যতদিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সিনহা বাবুর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে ততদিন বাংলাদেশের হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সকলে তার পেছনে থাকবে। তার জনপ্রিয়তা এখন যে কতখানি তুঙ্গে সেটি নীচের ছড়াটিতেই বোঝা যায়:
চীফ জাস্টিস সিনহা বাবুই
শেষ ব্যক্তি নন
জানিনা তো এর পরে যে
কে টার্গেট হন।
তবে যে যাই করুক না ক্যান
হাওয়া বদলে যাবে
সিনহা বাবু সাড়ম্বরে
গদি ফিরে পাবে।
এক্সটেনশনও হবে
এ কথা কি মিথ্যা হয়ে রবে?
এই ছড়াটি সামাজিক মাধ্যম থেকে নেওয়া। লিখেছেন বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। তারিখ ১১/১০/২০১৭। চীফ জাস্টিস এস কে সিনহা ছুটি থেকে ফিরে আসবেন কিনা জানি না। আমরা আরও জানিনা যে ১০ নভেম্বরের পর তিনি কি করবেন। তিনি কি ছুটি বৃদ্ধি করবেন? যদি বৃদ্ধি করেন তাহলে কত দিনের বৃদ্ধি? কারণ তার অবসরের তারিখ আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি। ১০ নভেম্বরের পর তার চাকুরি অবশিষ্ট থাকবে আর ২ মাস ২০ দিন। তিনি যদি ছুটি বৃদ্ধি না করেন, অথবা ফিরে না আসেন তাহলে এক কথা। আর যদি ফিরে আসেন তখন প্রশ্ন ওঠে, তিনি কি আবার চীফ জাস্টিসের আসনে বসবেন? কারণ প্রধান বিচারপতির বিবৃতিতে একাধিক মন্ত্রী এমনকি প্রধান মন্ত্রী সম্পর্কেও কিছু বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এর পরে সেই আসনে আবার অধিষ্ঠিত হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কিন্তু যখন বিচারপতি সিনহা বলেন যে আমি পালিয়ে যাচ্ছি না, আমি আবার ফিরে আসবো, তখন বিষয়টি অন্য ডাইমেনশন পায়।
ঐদিকে আগামীকাল রবিবার বাবু সিনহার বিবৃতি সম্পর্কে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক সরকারি বক্তব্য পেশ করবেন। তখন বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে আমার ধারণা, এই সরকারের হাত দিয়ে বিচারপতি এস কে সিনহা চীফ জাস্টিসের আসনে আর ফেরত যাচ্ছেন না।

লেখকঃ দৈনিক ইনকিলাবের সহযোগী সম্পাদক।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীর জন্য লন্ডনে দোয়া মাহফিল

photo ঔষধ প্রশাসনের ভূমিকা নিতান্ত বাড়াবাড়ি ও বিরক্তিকর লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃলন্ডন, ২৭ শে মে বুধবার লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস মুভমেন্ট ইউকে’র উদ্যোগে গত বুধবার ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী’র আরোগ্য কামনায় এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । রাইটস মুভমেন্ট ইউ কে’র আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ এর সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment