আজ : ০১:০২, নভেম্বর ১৬ , ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

সামাজিক সংগঠনের সঙ্কট-সমস্যা উত্তরনে সমাজকর্মীদের করনীয়


আপডেট:০৭:৩২, অক্টোবর ২২ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজিজঃ আদিকালে মানুষ ছিল ধর্মে, বর্ণে, কৌমে, গোত্রে, গোষ্ঠীতে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন । তাদের মাঝে হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি, পারস্পরিক সংর্ঘষ ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বলবানদের কাছে নিরীহরা ছিল জিম্মী । মানবকল্যাণে জনদরদী মনীষীরা স্ব স্ব ধর্ম, বর্ণ, কৌম, গোত্র ও গোষ্ঠীভূক্ত লোকদের মাঝে সামাজিকভাবে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে যুদ্ধবিগ্রহ, প্রার্কৃতিক বিপর্য্যয়ে বির্পয্যস্হ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবাদানের রেওয়াজ শুরু করেন । তারই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাদী উন্নয়নশীল দেশে আমরা অনেক পথ অতিক্রম করে বর্ণবাদী সমস্যা ও নানা দূর্ভেদ্য বাধা ডিঙ্গিয়ে প্রবাসে একটি বসবাসযোগ্য সামাজিক ব্যাবস্হা গড়ে তুলেছি। এই সমাজ ব্যাবস্হা গড়ে তোলতে আমাদের অগ্রজদের অনেক শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দিতে হয়েছে জীবন বিসর্জন। নিজেদের মাঝে সেতুবন্ধন করার মাধ্যমে পরস্পরের নানাবিধ সমস্যা দূরীকরনের ও সাহায্য সহযোগীতার মানষে দেশপ্রেমী ও মানবসেবীগণ গড়ে তোলেছেন কম্যূউনিটি ও সামাজিক সংগঠন। দুঃস্হ, নিরন্ন অসহায় মানুষের প্রতি কিছু মানুষের দরদ ও সহানুভূতি চিরকালই ছিল। তাদের এই দরদী মনের পরিচয় মিলে গরীব অসহায় মানুষের প্রতি দরদ-কৃপা-করুনা, দান-দক্ষিনা করে মানব সেবায় আত্মনিয়োগে। জনকল্যাণের সেবায় তারা নিজেকে উৎসর্গ ও নিবেদিত করেছেন।

এবার এরুপ সমাজ সেবা নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।আভিধানিকভাবে সেবার অর্থ হলো যত্ন বা শুশ্রুষা। অন্যভাবে যার অর্থ দাঁড়ায় সাহায্য বা সহযোগীতা। মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ট হওয়া নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকে পর্য্যন্ত যত্ন বা শুশ্রুষা করার প্রয়োজন হয়। তেমনিভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়তে হলে সোসাইটি বা সমাজকেও যত্ন করতে হয়। এমনকি প্রকৃতি, খেত-খামার, ব্যাবসা-বানিজ্যসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানেরও সেবার প্রয়োজন হয়। সেবা ছাড়া আপন সন্তানদেরকে যেমন মানুষ করা যায় না, তেমনি প্রয়োজনীয় শ্রম, সেবা-যত্ন ছাড়া ক্ষেত খামার থেকে ভাল ফসল তোলা যায় না। ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপায়ীত করা সম্ভব হয় না। সেবা-যত্ন ছাড়া সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পুঁজি হিসাবে জনসমর্থন অর্জন করাও সম্ভব হয় না। শুধূ তাই নয় সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্ম বিশ্বাসীগণ নিবিরচিত্তে সৃষ্টিকর্তার সেবায় মত্ব থাকেন। মানবকল্যাণে সেবাই পরম ধর্ম।

মানুষ হচ্ছে ভোগবাদী । তাদের লিপ্সা, ভোগ-উপভোগ, আশা-আকাঙ্খার কোন সীমা বা শেষ নেই। ছল-চাতুরী, কৌশল ও ধূর্ততাও তাদের অশেষ। তাই মানুষকে পাপের শাস্তি ও নিন্দার ভয় দেখিয়ে আদেশ-নির্দেশ ও উপদেশ দেওয়া হয়েছে। নবী-পয়গম্বর, সাধূ-অবতারগণ সমাজে নিরন্ন, নিঃস্ব, গরীব, অসহায়দেরকে অন্ন-বস্ত্রদানে ও লালন পালনের কথা বলে গেছেন। দরীদ্র-দূঃস্হ মানুষের প্রতি ধনবানদের দায়ীত্ব ও কর্তব্যের বাণী রেখে গেছেন। মারামারি, হানাহানি থেকে বিরত থেকে দুঃস্হ অসহায় মানুষের সেবায় একতাবদ্ধ হওয়ার উদ্যেশ্যেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ ( সঃ ) সামাজিক সংগঠন হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সামাজিক জীবনে বিভিন্ন গোত্র-গোষ্ঠীর কাড়াকাড়ি, মারামারী, হানাহানী ও দ্বন্দ্বে নয় বরং সংযম, সহিষ্ণুতায় ও পরস্পর সহযোগীতার মাধ্যমে সূখে, শান্তিতে, স্বস্তিতে, নির্বিঘ্নে, নিরাপদে সহঅবস্হান করা যে সম্ভব সে সকল বাণীতো পবিত্র কোরআনের বাণী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব বলে মহানবী হযরত মোহাম্মদ ( সঃ ) সমগ্র মানব সমাজের সামনে রেখে গেছেন। বারবার নবী-পয়গম্বরগণ সহ জ্ঞানী-গুণী, মানবহিতৈষী শান্তিকামী শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিবর্গ দেশে-দেশে, কালে-কালে সমাজের স্বজনদেরকে ভাল হওয়ার, অপরের ভাল চাওয়ার, অন্যের উপকার করার এবং মানুষকে ক্ষমাপরায়ণ হতে, লোভ-লালসা থেকে বিরত থাকতে সর্বোপরি মানুষকে ভালবাসার জন্য আহ্বান করে গেছেন। গৌতম বুদ্ধ তো কেবল মানুষের নয় বরং জগতের সব জীবের, সব প্রাণীরই বাঁচার এবং মানুষের সাথে সহ-অবস্থানের অধিকার দানের কথা বলে গেছেন। বর্তমানে যদিও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা তার বিঘোষিত নীতি লঙ্গন করে জীব হত্যা মহাপাপ অর্থাৎ নিরীহ রেহীঙ্গা নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধাদেরকে নির্বিচারে অত্যন্ত বর্বরোচিত ভাবে হত্যা করে চলেছে। নবী-পয়গম্বর ও সাধূ-অবতারগণের উল্লেখিত অমর বাণী সমূহের পথ ধরেই আধুনিককালে মানুষের মাঝে কানা, খোড়া, পঙ্গু, রুগ্ন, অনাথ, অসহায়, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধার খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্মগত অধিকার বাস্তবায়নের পথ কার্লমার্কস পরিস্কার ভাবেই বলে গিয়েছেন।

ভোগবাদী মানুষের লোভ-লালসা, লিপ্সা, ভোগ-উপভোগকারী রাবণদের লঙ্কা কান্ড অব্যাহত থাকার পরেও নিরন্ন, দূঃস্হ, অসহায় মানুষের প্রতি কিছু মানুষের দরদ ও সহানুভূতি সাড়া জগতেই বিদ্যমান রয়েছে। যাদের মাঝে স্নেহ, প্রীতি, ভালবাসা, মানবতা, আদর ও আবেগ রয়েছে। সমাজে যখন কোন বিপর্যয় ঘটে তখন তাদের মানব দরদী মনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাদের সমাগম ঘটে আরাকান, ইরাক, সিরিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া মানবিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্হ্য গণমানুষের মিছিলে। দুঃস্হ, নিরন্ন, ক্ষুধার্ত, স্বজন হারানো গৃহহারা মানুষের প্রতি সংবেদনশীল মানুষের দরদ, কৃপা, করুনা, দান-দাক্ষিন্ন নিয়ে এগিয়ে আসে মানবতার সেবায়। মা যেমন সন্তানকে ভালবাসে বলেই তার জন্য প্রাণ দিতে দ্বিধা করেনা তেমনি যারা মানব সমাজকে ভালবাসে, দেশকে ভালবাসে তারাও দেশ ও মানুষের সেবার জন্য, মঙ্গলের জন্য নিজের জীবনের সূখ, শান্তি, আনন্দ, আরাম-আয়েস ও ধন সম্পদ বিসর্জন দিয়ে সর্বত্যাগী হয়। এমন কি প্রয়োজনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ও দেশের সেবায় আত্মোৎসর্গ করে। যেমনটি করে মানবসেবায় আলোকিত নক্ষত্র হয়ে বেঁচে আছেন প্রেম ও করুণার দয়ার মূর্ত প্রতিমা মাদাম তেরেসা, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ও রেডক্রসের প্রতিষ্ঠাতা হেনরী ডুন্যান্ট।

এবার সুদূর প্রবাসে বিলাতে সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা, ভূমিকা ও সংকট নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। বিলাতে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা এবং নিজ নিজ এলাকায় নিরন্ন, নিঃস্ব-দুঃস্হ অসহায় মানুষকে সময়ে সময়ে বা প্রাকৃতিক দূর্যোগাক্রান্ত মানুষের সাহায্য সহযোগীতার করার উদ্যেশ্যে সামাজিক সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম। কিছু কিছু সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন এলাকায় আর্তমানবতার সেবায়, শিক্ষা, স্বাস্হ্য ও শিল্পোন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তবে সার্বিকভাবে সামাজিক সংগঠন গুলো সংকট ও সমস্যা মুক্ত নয়। আঞ্চলিক অনুভূতি থেকে গঠিত সামাজিক সংগঠনগুলোর অধিকাংশের নেতা-কর্মীগণ দেশীয় অসুস্হ রাজনীতির বাই-প্রোডাক্ট ও অন্ধ অনুসারি হওয়ায় তারা দেশীয় অসুস্হ রাজনীতির বিষবাস্প ছড়ানোর চেষ্টায় কোন না কোন ভাবে সম্পৃক্ত। ফলে একই অঞ্চলে বা জেলায় যেখানে একটি মাত্র সংগঠনই যথেষ্ট সেখানে উপদল ভিত্তিক হরেকরকম নামে বিভিন্ন সংগঠন গঠনের মাধ্যমে প্রবাসীদেরকে বহুধা বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। এদের অনেকেই নৈতিক চরিত্রে ও আদর্শীক প্রত্যয়ে শুদ্ধ নন বলে কথা রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য অন্যত্র। তাদের অনেকেই সমাজসেবার সুযোগ নিয়ে মান-যশ, দাপট, ক্ষমতা, প্রভাব প্রতিপত্তি, অর্থ-বিত্ত-বেসাত অর্জনে ধনী ও মানী হতে চান। মানুষের বা দেশের মঙ্গলের প্রতি এদের দায়-দায়ীত্ব প্রশ্ন স্বাপেক্ষ! আত্মপ্রচারনায় আসক্ত এই সকল তথাকথিত সমাজকর্মীগণ স্ব-স্ব জেলা বা এলাকায় পরিচিতি লাভের আশায় এবং ভবিষ্যতে যদি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল থেকে টিকেট ক্রয় করা যায় তার লক্ষ্যে ক্ষেত্র তৈরী করা। আশংকাজনক এই প্রতিযোগিতায় অনেকে আবার নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে দ্বিধা করেন না। প্রকৃত সমাজ সেবকদেরকে ঠেকাতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদেরকে সাথে নিয়ে নীতি, আদর্শ বিবর্জিত সংগঠন গঠনের প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে উঠেন। মানব সেবার অভ্যাস, দেশকে ভালবাসা, সহনশীলতা, অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, পারস্পরিক সহযোগীতার কোন রকম গরজ নেই এদের। তারা সমাজকর্মে অনভিজ্ঞ, অযোগ্য হয়েও টাকার জোরে দলীয় নমিনেশন প্রাপ্তির জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পরেন।

কোন নীতি আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাবান না হয়েও নিজেকে একজন দক্ষ, যোগ্য সমাজকর্মী এবং রাজনীতিক বলে দাবী করেন। মন্ত্রী-এম,পি এবং দলীয় উর্ধতন প্রভাবশালী নেতাদের আগমনে এরা সরব হয়ে উঠে। আত্মসম্মানবোধ, পৈত্রিক জান ও ধন লুটিয়ে দেয় তাদের চরণে। নেতার সাথে ফটো তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে হয় তৃপ্ত । তল্পিবাহক হিসাবে পিছনে ঘুরে ঘুরে তদবির বানিজ্যের সুযোগ নিয়ে অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে অসদুপায়ে। আমজনতা তথা নিরন্ন, নিঃস্ব, দুঃস্হ মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণ চেতনা তাদের মাঝে শূণ্য। নৈতিকতা, আদর্শগত লক্ষ্য, আত্মমর্যাদাবোধ, বিবেক ও আনুগত্য যা থাকা প্রয়োজন তা তাদের মাঝে অনুপস্হিত। ফলে দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশী মেকী সমাজকর্মীদের মাঝে কাড়াকাড়ি, মারামারি, হানাহানীর প্রতিযোগিতা বহমান। মানুষের ব্যাক্তিক, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন-জীবিকা নিরাপত্তাহীন। দূর্বল, অসহায়, নিঃস্ব, নিরন্ন, দুঃস্হ, অজ্ঞ নিরক্ষর হয় প্রতারিত, শোষিত ও বঞ্চিত। তাদের জীবন ধনবান ও বলবান সামাজিক-রাজনৈতিক দূ্র্জ্যধনদের হাতে জিম্মী। প্রতিকার, প্রতিবাদ করার জন্য প্রকৃত জনদরদী সমাজসেবক বা রাজনীতিকের আকাল চলছে দেশে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন সায়াহ্নের পর থেকেই। ফলে প্রকৃত সমাজসেবা থেকে সামাজিক সংগঠন সমূহের মূল লক্ষ্য বিচ্যূতি ঘটে চলেছে যা প্রকৃত সমাজ সেবকদের জন্য অসনি সংকেত।

লক্ষ্যনীয় যে সমাজকর্মকে শুধূ দান-খায়রাত, আচার-অনুষ্ঠানের মাঝে সীমিত রাখা হচ্ছে, যা বাঞ্চনীয় নয়। মানবজাতির কল্যাণ ছাড়াও সমাজকর্মীদের যে আরো ব্যাপক দায়ীত্ব রয়েছে সে ব্যাপারে আমরা অনেকেই অজ্ঞ। যেমন মানবাধিকার রক্ষা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন, বিমান বন্দরে হয়রানী, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, প্রকৃতি, পরিবেশ, নদ-নদী, বনজ সম্পদ, জলজ প্রাণী রক্ষা সহ শিক্ষা, স্বাস্হ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও খেলাধূলা সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে সমাজকর্মীদের দায়ীত্ব অপরিসীম। একথা সকলেরই জানা যে যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ দ্রুত শিল্পীয়ীত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ধ্বংস করে সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গ্যাস ফিল্ড, ক্যামিক্যাল প্ল্যান্ট ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় স্পেশাল ইপিজেড স্হাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। গ্যাস ফিল্ড, কেমিক্যাল প্ল্যান্ট ও শিল্প কারখানা স্হাপনের ফলে দেশবাসীর অনেকেই আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু যে সকল এলাকা শিল্পায়ীত করা হয়েছে সে সমস্ত এলাকায় সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে কারো কোন ভাবনা নেই। অবশ্য না ভাবার কারন আমাদের অজ্ঞতা। ঐ সকল শিল্প-কারখানা স্হাপনের আগে সরকার বা কারখানার দেশী-বিদেশী মালিক পক্ষ থেকে এর সুফল বা সম্ভাব্য বিপর্য্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে স্হানীয় এলাকাবাসী তথা জনগণের সাথে কোন পাবলিক কনসালটেশন করেনি। ফলে শিল্প স্হাপনের সুফল ছাড়া সম্ভাব্য ঝুঁকি বা জননিরাপত্তা বিষয়ে দেশবাসী সম্পূর্ণ অজ্ঞ, অন্ধকারে ।

পাঠকদের অবগতির জন্য সম্ভাব্য বিপর্য্যয় সম্পর্কে এখানে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। অনেক পাঠকেরই হয়তো বা জানা আছে যে কয়েক বৎসর পূর্বে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভূপালে একটি গ্যাস ও কেমিক্যাল প্লান্টে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ঐ বিষ্ফোরণে কয়েক হাজার শ্রমিক ও এলাকার সাধারন মানুষ মারা যায়। পঙ্গুত্ব বরণ করে অসংখ্য নর-নারী- শিশু। পরবর্তিকালে ঐ এলাকায় যে সকল শিশু জন্ম নিয়েছে এবং এখনো জন্ম নিচ্ছে তারা রাসায়নিক তেজস্ক্রিয়তার কারনে পঙ্গু হয়ে জন্ম নিচ্ছে। এই হলো গ্যাস ফিল্ড ও কেমিক্যাল প্লান্ট বিপর্য্যয়ের আলামত। প্রশ্ন হচ্ছে ভূপালের মত কোন বিপর্য্যয় যদি কখনো সুন্দরবন ধ্বংস করে গড়ে তোলা রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা হবিগন্জের বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে ঘটে তাহলে জননিরাপত্তা তথা পরিবেশ রক্ষার জন্য রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বা বিবিয়ানা কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কি কোন প্রস্তুতি রয়েছে ? অপরদিকে সম্প্রসারিত শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য নিষ্কাষনের কোন উপযুক্ত নিরাপদ ব্যবস্হা না থাকার কারনে ইতিমধ্যেই গণস্বাস্হ্য হুমকীর সম্মূখীন এবং কৃষি, জলজ প্রাণী, গবাদি পশু, ফসল, প্রকৃতি ও বনজ সম্পদের অপুরনীয় ক্ষতির সম্মূখীন হয়ে পরেছে। এবিষয়ে রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ভূমিকা বা পদক্ষেপ আশা করা যায় না।
মানবজীবন, কৃষি, বনজ সম্পদ সহ জলজ প্রাণী, পরিবেশ, প্রকৃতি রক্ষা ও উন্নয়নে মেকি সমাজকর্মীদের কোন প্রকার প্রতিশ্রুতি নেই।

সামাজিক সংগঠনের চলমান সঙ্কট ও সমস্যা নিরসনে প্রথমেই ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে রাজনৈতিক মতভেদের উর্দ্ধে উঠে মানুষের প্রতি মায়া-মমতা, ভালবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, মানুষের কল্যাণে ও মর্য্যাদাদানের জন্য সমাজ কর্মীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ সেবকের যোগ্যতা অর্জনে বুদ্ধিগ্রাহ্য বাস্তব জ্ঞান ও মানুষের জীবন জীবিকা সম্বন্ধে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা । তৃতীয়তঃ প্রতিকূল অবস্হায়ও যে কোন পরিণামের ঝুঁকি নিয়ে এমন কি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্ভীকচিত্তে মানবকল্যাণে নিরলস ও অবিরামভাবে মানব সেবায় নিয়োজিত থাকা । অপর মানুষের মতামতের প্রতি, আচার-আচরনের প্রতি শ্রদ্ধার না হোক অন্ততঃ সহিষ্ণুতার দৃষ্টি প্রসারিত করা। সমাজ বিনির্মানে অপরের সঙ্গে সমস্বার্থে সহযোগী হয়ে পরশীরুপে সদ্ভাবে ও শান্তিতে সহঅবস্হানের পরিবেশ-পরিস্তিতির ক্ষেত্র তৈরী করার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা। এই সংকটজনক কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য প্রকৃত জনদরদী, দেশপ্রেমিক সমাজসেবক ও সংগঠন সমূহকে উদ্যোগী, নিষ্ঠ, সাহসী, ত্যাগপ্রবন, সহিষ্ণু, প্রত্যয়ী, সংগ্রামী ও কল্যাণকামী হিসাবে নিজেদেরকে তৈরী করে অগ্রনী ভূমিকা পালন করা প্রতিটি সমাজ কর্মীর জন্য অপরিহার্য।

লেখকঃ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক সমালোচক

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত শায়মা জামানের এক্সিবিশন

photo স্পেশাল রিপোর্টারঃ লন্ডনের বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামের উদ্যোগে ' ডিফরেন্স বিলিভ এন্ড ডিফরেন্স রিলিজন ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক মানের এক প্রতিযোগিতায় একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ মেয়ে শায়মা জামান উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় তিন বছর নানা বাছাই পর্বের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়। ছয়টি ক্যাটাগিরিতে এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে ধর্ম, বিশ্বাস ও সফলতা। শায়মা জামানের বিষয় ছিল, ইসলাম,

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment