আজ : ০১:০২, নভেম্বর ১৬ , ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

মানবিক বিপর্যয়ে ধূর্তের পুঁজি ধর্ম !


আপডেট:০১:৪২, অক্টোবর ৩০ , ২০১৭
photo

মোহাম্মেদ এ আজিজঃ প্রাণীজগতে মানুষকে তার বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-ভাবনা, ভাল-মন্দ, দোষ-গুণ, ন্যায়-অন্যায়, পরোপকার-অপকারের চেতনার প্রবলতা এবং দুটি হাতের কারনে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে বলে পন্ডিতগণ বলে গিয়েছেন। সে কারনেই মানুষ তার বুদ্ধি ও বাহুবলে প্রকৃতিকে বশ করে জীবন-জীবিকার অনুগত করতে সক্ষম হয়েছে । ফলে মানুষ এখন আকাশ-জমিন দখলে নিয়ে পৃথিবীর মালিক হতে প্রতিযোগিতায় মত্ত। মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর জীবন মুখ নির্ভর হওয়ায় জীবিকার জন্য যৌথ জীবনের গরজ বোধ থাকেনা বলে তারা স্ব-নির্ভর। কিন্তু আশরাফুল মাকলুখাতের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ হস্ত নির্ভর হওয়ায় সমাজে বসবাস ও জীবন- জীবিকা সংস্হানের জন্য তাদের পারস্পরিক সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। রিপু বশ্যতার কারনে মানুষের প্রবনতা হচ্ছে সে তার আত্মপ্রসারের প্রয়োজনে অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে ছলে-বলে-কৌশলে সবকিছুকে অনুগত করা। কিন্তু সমাজে দূর্বলকে সবলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, সামাজিক কলহে বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্য্যস্হ নিরীহ, নিঃস্ব, অসহায়, মানুষকে সাহায্য- সহযোগীতার লক্ষ্যে মানবহিতৈষী সমাজপতি অভিভাবকগণ আধিকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিজেদের মূল্যবান সময়, ধন-সম্পদ, জীবন জনকল্যাণের সেবায় নিবেদিত ও উৎসর্গ করেছেন।

দূনিয়াব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ গুলোকে দখলে নিয়ে কুক্ষিগত করার জন্য পুজিবাদী দেশ সমূহ বিভিন্ন ছল-ছূতায় যুদ্ধ-বিগ্রহ সৃষ্টি করে মানবিক বিপর্য্যয় ঘটিয়ে চলেছে। অপরদিকে প্রকৃতিকে বশে আনার জন্য প্রকৃতির বিরুদ্ধে কর্পোরেট কম্পানির ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের ফলে প্রকৃতি প্রতিশোধ প্রবন হয়ে উঠে সাইক্লোন, টর্নেডো, অতি বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস এবং বন-জঙ্গলে উপর থেকে সৃষ্ট আগুনে বিদ্রোহ করে চলেছে। মনুষ্য সৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দূর্য্যোগে সাধারন মানুষ যখন মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্য্যয়ে আক্রান্ত হয়ে সর্বশান্ত হয় তখন দুঃস্হ অসহায় মানুষের সহায্যে মানবদরদী সমাজকর্মীগণ সহানুভূতির হাত প্রসারিত করে। তবে মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দূর্য্যোগে সাধারন মানুষের সর্বনাশ ঘটলেও কিছু মতলববাজ ধূর্তদের জীবনে নিয়ে আসে পৌষ মাস।

আর্তমানবতার সেবার নামে মতলববাজ ধূর্ত ব্যাক্তিরা ধর্মের আশ্রয় নেয়। তাদেরকে ধর্মশাস্ত্র ও ইহ-পরকালের আবেগ-উদ্বেগ, পাপ-পূণ্য শাস্ত্রভীরুতার বাণী প্রচার করে ফায়দা উঠাতে লক্ষ্য করা যায়। ভন্ড সমাজপতি ও ধর্মীয় নেতারা অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে সরব হয়ে উঠেন । মনুষ্য সৃষ্ট বা প্রাকৃতিক বিপর্য্যয় ঘটার জন্য যেন তাদের অপেক্ষার অন্ত নেই। একটা কিছু ঘটনা সংগঠিত হলেই কওয়া নেই-বলা নেই মতলববাজ সমাজকর্মীরা কুম্ভীরাশ্রু প্রদর্শন করার জন্য গণমাধ্যমে ভীর করেন। বিপর্য্যস্হ অসহায় মানুষের সাহায্যের নামে মতলববাজ ধূর্তরা ধর্মের আশ্রয় গ্রহন করে। স্যান্ডিক্যাট সৃষ্টি করে ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা একটি নিয়মিত লাভজনক বানিজ্যে পরিনত হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। তহবিল সংগ্রহ কালে শাস্ত্রবিধি মোতাবেক বাকপটুতার আশ্রয় নিয়ে ইহ-পরকালের ভয়-ভীতি, পূণ্যতা অর্জনের লোভ-লালসার ধর্মীয় বাণী প্রচারের মাধ্যমে সহজ সরল মানবদরদী মানুষকে প্রভাবিত করে অনবরত তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। অবস্হা এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে দুষ্ট-দুরন্ত শিশুর চঞ্চলতায় যে ভাবে পরিবারের সদস্যরা উদ্ব্যস্ত এবং রুগ্ন শিশুর বা পরিবারের ঝগড়াটে বাউন্ডুলের বিরক্তিকর মেজাজ, চেচামেচি ও কান্নায় যে ভাবে মা-বোনেরা উত্ত্যক্ত হয় তেমনি ভাবে গণমাধ্যমে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা রং-বেরঙ্গের চ্যারিটি সংগঠন বা ফাউন্ডেশনের নামে নিরন্তর তহবিল সংগ্রহের লাইভ অনুষ্ঠান গুলোও মানুষের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে । প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলে না কিন্তু নিঃস্ব, নিরন্ন, অসহায় বিপর্য্যস্হ মানুষের কল্যাণের নামে যারা তহবিল সংগ্রহ করে চলেছেন তাদের সততা ও জবাবদিহীতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের বীজ বপন করে চলেছে । সমাজের বিভিন্ন স্থরে, ক্যাফে-রেষ্টুরেন্টে আড্ডার আসরে টেলিভিশনে মানবকল্যাণ তথা ধর্মের নামে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তহবিল সংগ্রহ নিয়ে মুখরুচক গল্প-গুজব প্রায়ই শুনা যায়। সমাজ সচেতন মানুষের মতামত হলো প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে তহবিল সংগ্রহ করার পরে যদি লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কি পরিমান তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে সে বিষয়ে পরিস্কার ঘোষনা করা হয় তাহলে দাতাদের কাছে স্বচ্ছতা বাড়বে। একইসাথে সংগৃহীত তহবিল থেকে কি পরিমান আর্থিক সাহায্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বিপর্য্যস্হ মানুষের সাহায্যে ব্যয় করা হবে সে বিষয় ঘোষনা দিলেও তহবিল সংগ্রকারীদের স্বচ্ছতা নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন থাকবে না বলে দাতাগণ ও জনসাধারণের বিশ্বাস।

সমাজে দায়িত্বসচেতন, কর্তব্যপরায়ণ, বিবেকবান, পরোপকারী মানব হিতৈষীগণ মনে করেন সৎ ও মহৎ উদ্দ্যেশ্যে বির্পয্যস্হ নিঃস্ব-নিরন্ন অসহায় গণমানুষের কল্যাণের নামে সংগৃহীত তহবিল তাদের কল্যাণেই ব্যয় করা সর্বসম্মত বিধি। হিসাব ও জবাবদিহীতায় গোঁজামিল বা ফাঁকির ফাঁক দিলে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে তাই সততার নির্দশন হিসাবে বিশ্বস্ততা ও জবাবদিহিতার মাঝে কোন প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি না হলেই উত্তম। তাহলে দাতা ও গ্রহীতার মাঝে আস্থা-বিশ্বাস মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। মতলববাজদের কৃতকর্মের জন্য সহজ সরল মনের দাতারা যাতে মূখ ফিরিয়ে না নেয় সে জন্য ইহজগৎ ও পরকাল সচেতন, সৎ, জনদরদী, মানবতাবাদী সমাজকর্মী, ধর্মীয় শাস্ত্রবিদের অন্তরে শুভবুদ্ধি জাগরিত হোক - এটাই আমাদের সকলের কাম্য হওয়া বাঞ্চনীয়।

লেখকঃ কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক সমালোচক

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত শায়মা জামানের এক্সিবিশন

photo স্পেশাল রিপোর্টারঃ লন্ডনের বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামের উদ্যোগে ' ডিফরেন্স বিলিভ এন্ড ডিফরেন্স রিলিজন ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক মানের এক প্রতিযোগিতায় একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ মেয়ে শায়মা জামান উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় তিন বছর নানা বাছাই পর্বের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়। ছয়টি ক্যাটাগিরিতে এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে ধর্ম, বিশ্বাস ও সফলতা। শায়মা জামানের বিষয় ছিল, ইসলাম,

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment