আজ : ০৯:৩৫, মে ৩০ , ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শিরোনাম :

'ব্লু হোয়েইল' গেমঃ আত্মহত্যা বা মৃত্যুই যেখানে বিজয়


আপডেট:০২:৩৩, অক্টোবর ৮ , ২০১৭
photo

রোমান বখত চৌধুরীঃ জার্মানি থেকে মুনীর আহমাদ ভাই কাল তাগাদা দিচ্ছিলেন ব্লু হোয়েইল ( নীল তিমি) গেম নিয়ে কিছু লিখতে। এ কাজটি মুনীর ভাই প্রায়ই করে থাকেন।নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা আর আমাকে লেখালেখিতে উৎসাহ প্রদান মুনীর ভাইয়ের তাগিদের উদ্দেশ্য। সামাজিক সচেতনতা একটি কল্যাণ কর্ম। ইসলামে এটি ইবাদাতের অংশ। মুনীর ভাই আপনার এই সদিচ্ছা আল্লাহ কবুল করুন।

ইন্টারনেট ঘেঁটে যা জানলাম তাতে, 'ব্লু হোয়েইল' গেম সত্যিই এক ভয়ঙ্কর গেম। মৃত্যুই এই বিষাক্ত গেমের পরিনতি। আত্মহত্যা বা মৃত্যুই যেখানে বিজয়। বিজিতের লাশ ঘরের শো কেসে সাজানোর ট্রফি। ১৫ বছরের নিচের ছেলেমেয়েরা এই গেমের টার্গেট, এবং এরাই বেশি আসক্ত।কারন এই বয়সের মানসিক অবস্থা সত্যিকারের ভালো মন্দ বুঝার নয়। তাছাড়া 'ডেয়ার ডেভিল' বা এডভেঞ্চারাস একটা ভাব থাকে এই বয়সে কিশোর কিশোরীদের কোমল মনে।যে হারামি এই ব্লু হোয়েল গেমের উদ্ভাবক ওর নাম, ফিলিপ বুদেকিন। বাড়ি রাশিয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় বিতাড়িত মনোবিজ্ঞানের এই মানসিক বিকারগ্রস্ত যুবক ৫০ দিনে ৫০টি চ্যালেঞ্জের এই ব্লু হোয়েইল গেমের শেষ ধাপটি রেখেছে 'আত্মহত্যা'। আশ্চর্যরকম এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই গেমের যাত্রা হয় ২০১৩ সালে। উদ্দেশ্যটি হল, যেসব মানুষ জীবনের কোন এক সময়ে আত্মহত্যা করবে তাদেরকে এই উঠতি সময়ে চিহ্নিত করে গেমের মাধ্যমে চেলেঞ্জের শেষ ধাপে (৫০ তম) খতম করে দেয়া। আর তাতে পৃথিবীতে যারা থাকবেন, তারা আত্মহত্যা প্রবনতা থেকে মুক্ত। মানে শুদ্ধ এক জনগোষ্ঠী।মহাত্মনের কি ভয়ানক শুদ্ধিকরণ ভাবনা!

সারা দুনিয়া ঘুরে আজ ২০১৭ সালে 'আত্মহত্যার অ্যাপস'টি এখন বাংলাদেশে আস্তানা গেড়েছে। শুনেছি হ্যাস ট্যাগ দিয়ে গেমের নাম লিখে ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করলে ব্লু হোয়েইল গেমের এডমিন তার অ্যাপস পাঠিয়ে দিবে এবং ধাপে ধাপে যোগাযোগ করবে।(সাবধান চেষ্টা করবেন না আপনার ডিভাইসে ইন্সটল করার, কারন ডিলিট করতে পারবেন না)।এডমিন এই সময়ের মধ্যে সেনসিটিভ কিছু ব্যক্তিগত তথ্যও আদায় করে নেয় অকুতোভয় চ্যালেঞ্জারের কাছ থেকে। গেমের মধ্যিপথে কোন দুর্বল চ্যালেঞ্জার যদি পালাতে চায়, তাহলে তাকে ওই তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন রকম ক্ষতির সম্মুখীন করার ধমক দেয়া হয়। আর আরেকটি বিষয়, গেমটি ডাউনলোড করার পর ডিভাইস থেকে কোনভাবেই ডিলিট বা আনইন্সটল করা যায় না। ফলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতেই থাকে। পরে ছেড়ে 'দে মা কেঁদে বাঁচি'র মতো 'প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে' আবারো গেমে প্রত্যাবর্তন চলে।

যাক, বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক দেশই তাদের অনলাইন সেফটি কার্যক্রম আপগ্রেড করছে। উক্ত গেমের লিঙ্ক আসা বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিছু কিছু দেশে এই ব্লু হোয়েইল গেমের বিপরীতে ভালো চ্যালেঞ্জের গেমের প্রচলন করছে।
আরেকটি বিষয়, আধুনিক বিশ্বে পরিবারের আর্থিক দায় বা চাহিদা মেটাতে পিতামাতার ব্যস্ততা ভীষণভাবে বেড়ে গেছে। তাছাড়া একান্নবর্তী (যৌথ) পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবারও বেড়ে গেছে খুব। বাচ্চারা পরিবারে পিতামাতার বাইরে আর কাউকে খেলা বা কথা বলার জন্য পায় না। ফলে নিজেদের সময় কাটাবার জন্য অন্য পন্থা বেছে নেয়। ডুবে যায় স্মার্ট ফোন কিংবা ট্যাবে।আর মা-বাবারাও বাচ্চাদের নিবৃত করতে সহজেই স্মার্ট ফোন বা ট্যাব হাতে তুলে দেন। পাড়াপড়শির কাছে সন্তানের ট্যাব চালানোর দেমাগমিশ্রিত সাফল্যও বর্ণনা করেন। আর এই সুযোগে আত্মঘাতী ব্লু হোয়েইল গেমগুলো তাঁদের ঝলমলে কোমল মনে ঢুকে পরে। চালায় তাণ্ডব, কেড়ে নেয় পৃথিবীর কত শত প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জারদের।
সন্তানদের প্রতি সময় দিতে হবে পিতামাতার। কারন স্কুলের পরে এই মা বাবাই একক পরিবারে একমাত্র ভরসা। নজর রাখতে হবে অনলাইন আসক্তি হচ্ছে কিনা। তার আচরণের পরিবর্তন ঘটছে কিনা।দ্রুত চিহ্নিত করলে কিছুটা রক্ষা হবে। তবে সরকার ও সামাজিক সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে মহামারি ব্লু হোয়েইলের এই ডাকাতদের মোকাবেলা করতে।
ব্লু হোয়েইল গেমের এই ডাকাতরা কিন্তু কারো দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকবে না। কিংবা মশা মাছির মতোও ভেন্টিলেটর দিয়েও নয়। এরা ঢুকবে বিনা তারে, ইথারে ভেসে। টেরও পাবেন না। দৃষ্টিগোচর নয় এর বিস্তারের লক্ষণও। পাবেন একদিন, যখন সামনে আসবে 'ব্লু হোয়েইল' বা নীল তিমির প্রচ্ছদে মোড়া আপনার প্রিয় সন্তানের ছিন্নবিচ্ছিন্ন অসাড় দেহ।
(বিঃ দ্রঃ আমার ধারনা আমরা যারা রেডিকালাইজেশন বুঝিনা, এই ব্লু হোয়েইল গেমটি একটি উত্তম উদাহরণ হতে পারে।)
লেখকঃ লন্ডনবিডিনিউজ২৪.কম ম্যানেজিং এডিটর।
Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীর জন্য লন্ডনে দোয়া মাহফিল

photo ঔষধ প্রশাসনের ভূমিকা নিতান্ত বাড়াবাড়ি ও বিরক্তিকর লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃলন্ডন, ২৭ শে মে বুধবার লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস মুভমেন্ট ইউকে’র উদ্যোগে গত বুধবার ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী’র আরোগ্য কামনায় এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । রাইটস মুভমেন্ট ইউ কে’র আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ এর সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment