আজ : ০৪:৪৫, ডিসেম্বর ৮ , ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

ফ্যাসিবাদের পতনে ‘আবেগের সঙ্গে ঐক্য’ নিয়ে লড়তে হবে: মির্জা ফখরুল


আপডেট:০৪:২৭, মার্চ ২৪ , ২০১৯
photo

ঢাকা প্রতিবেদক: বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানোর যুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে আবেগের সঙ্গে জনগণের ঐক্যকেও আরও সুদৃঢ় করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘শুধু আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় হয় না। জনগণের ঐক্যকেও সুদৃঢ় করতে হয়। কঠিন সময় এখন। আর এই সময়ে জনগণের ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। আরও সুদৃঢ় করতে হবে। জনগণের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, হবেও। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে আবেগের সঙ্গে সকলের ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে হবে।’

রবিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ‘ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ’।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির ভুল নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল- দলের নেতাকর্মীদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে এবং নির্বাচনের পরেও তাঁর নির্দেশেই ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করছে দলটি।’

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে আমরা একটি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। বেছে নিয়েছিলাম আমাদের গণতন্ত্রের মাতার (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) নিদের্শেই। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, আমাদের সাধারণ সভায় তিনি পরিষ্কার করে বলে গিয়েছিলেন যে, দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে এবং এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করতে হলে সমস্ত জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জনগণের ঐক্য এবং সম্মিলতি প্রয়াস ছাড়া এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজিত করার কোনও সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হতে সমগ্র মানুষকে এক করতে হবে। আমরা নির্বাচনের যাওয়ার পূর্বে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে যেতে হবে এবং জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এমনকি নির্বাচনের পরে তিনি এই ঐক্যকে ধরে রাখারও নির্দেশ দেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘এখানে অনেকে অনেক কথা বলছেন। আমরা দেখেছি নেত্রী গ্রেফতার হওয়ার পরে কর্মসূচিগুলোতে কতজন এসেছেন, কতজন আসেননি। আমরা তো দেখেছি কারা কারা কর্মসূচি থেকে আস্তে আস্তে চলে গেছেন। আমরা তো দেখেছি এই নির্বাচনের মধ্যে কারা বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছেন। সুতরাং শুধুমাত্র কথা বলে একটি আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় বসে থেকে শত্রুকে পরাজিত করতে পারবো না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের ঐক্যকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বর্জন করেছে, সেই ঐক্যকে ভাঙতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, দেশনেত্রীর নির্দেশে এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবো এবং এই ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারি শক্তিকে পরাজিত করবো। ঐক্য ভেঙে গেলে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদীদের সরাতে পারবো না। সেজন্য ছোটখাটো সমস্যাকে বড় করে না দেখে দলের ও জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি কোনোদিন নিঃশেষ হবে না। বিএনপির রাজনীতি জনগণের রাজনীতি। এর আগে অনেকে বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছিলো। এরশাদ সরকার ভাঙতে চেষ্টা করেছে। এর পরে আওয়ামী লীগও ভাঙতে চেয়েছিলো, কিন্তু পারেনি। আবারও এখন চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু একজন কর্মীকেও সরিয়ে নিতে পারেনি। এখন সময় কঠিন। এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে অত্যন্ত ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের এক পর্যায়ে দর্শক সারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশ্ন আসতে থাকে। এসময় মির্জা ফখরুল তাদের মঞ্চে এসে প্রশ্ন করতে আহ্বান জানালে দর্শক সারি থেকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এইচএম রাশেদ মঞ্চের কাছে এসে জানতে চান, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়নি কেন?’ উত্তরে ফখরুল বলেন, ‘কে বলেছে আপনাকে এই কথা। অবশ্যই মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ডোন্ট টেল এ লাই।’ এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টিএস গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রমুখ।



সাম্প্রতিক খবর

ইউ‌কে-বাংলা প্রেসক্লা‌বের ‌নতুন ক‌মি‌টি

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ : যুক্তরা‌জ্যে ব্রি‌টিশ বাংলা‌দেশী পেশাদার সাংবা‌দিক‌দের প্র‌তি‌নি‌ধিত্বশীল সংগঠন ইউ‌কে বাংলা প্রেস ক্লা‌বের চতুর্থ সাধারন সভা ও নির্বাচন ৫ই ডিসেম্বর বৃহস্প‌তিবার রা‌তে পুর্ব লন্ড‌নের ভ্যালেন্স রোডস্থ এক‌টি হ‌লে অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছে। ‌প্রেসক্লা‌বের প্র‌তিষ্টাতা সভাপ‌তি ও নির্বাচন প্রস্তু‌তি ক‌মি‌টির অাহবায়ক রেজা অাহমদ

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment