আজ : ১১:০৯, মে ৩০ , ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭
শিরোনাম :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি ম্যডাম জিয়ার সাথে লন্ডনে ফোনে কথা বলেছেন ?


আপডেট:০১:০২, অক্টোবর ৮ , ২০১৭
photo

রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী: নাটক আর গুজবে ভাসছে বাঙালী- ঢাকা থেকে লন্ডন হয়ে নিউইয়র্ক। কোথায় নেই গুজব। সে সব গুজব যারা সৃষ্টি করেছেন তারা হচ্ছেন আমারই বন্ধু সাংবাদিক, নাম বলছিনা, বলে লাভ নেই। তারা এখন আওয়ামী সরকারের দালাল। দালালীকে তারা পেশা হিসেবে গ্রহন করেছেন। করবে না কেন? ছাপোষা সাংবাদিক। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। দুর্নীতি না করলে পেট চলবে কি করে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তৈল মর্দন করে যদি দু কলম লিখে লাভবান হন আমারই বন্ধু সাংবাদিকরা তাতে আমার জেলাস হওয়ার কিছু নেই। আমি খুশী হওয়ারই কথা, কিন্তু আমি খুশী হতে পারিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতি সংঘের সাধারন অধিবেশনে যোগ দিলেন। গুজব বের হলো তিনি আর দেশে ফিরছেননা। কেন ফিরছেননা? তিনি সেইফ এক্সিটে চলে গেছেন।

তারপর খবর বের হলো তিনি সবাইকে নিউইয়র্কে ফেলে তার ছেলের বাসভবনে চলে গেছেন। তিনি অসুস্থ। তারপর তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। তাড়াতাড়ি এবং সেটি একদিনও লাগেনি! সেখান থেকে তিনি লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন। লন্ডনে আসলেন। আমরা যারা সাংবাদিক মিডিয়া কর্মী স্বভাবতই আশা করেছিলাম তিনি আমাদের সাথে বসবেন। অবশ্য আমাকে দাওয়াত দেয়া হয়না। কারন আমি নাকি রুড। আমি বিয়াদব এ রকম একটা রেপোটেশন আমার গড়ে তুলেছেন বিএনপি ও আওয়ামীলীগের কিছু নেতা পাতি নাতিরা। ওহ ফয়সল চৌধুরী শোয়েব? উনাকে সামলানো যাবেনা। আচ্ছা আমাকে সামলানোর কি আছে? প্রধানমন্ত্রী কি ঢাকায় সাংবাদিক ফেইস করেননা? সে যাক লন্ডনে সাংবাদিকদের সাথে প্রধানমন্ত্রী বসেননা। বসেননা তারেক জিয়া সাহেবও। ম্যাডাম জিয়া লন্ডনে এসেছেন আজ অনেকদিন হলো কিন্তু সাংবাদিকদের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। দলীয় নেতাদেরকেও নাকি সাক্ষাৎ দিচ্ছেননা। তিনি নাকি অসুস্থ। লন্ডনে আরেক নাটকের যবনিকা কবে হবে আমি জানিনা।

ঢাকা উওরের মেয়র আনিসুল হক নাকি সিরায়াসলী অসুন্থ! কি তার রোগ কেউ জানেনা। আমরা যারা লন্ডনে বসবাস করি তারা ঘাস খাই। ঘাস খেয়ে সাংবাদিক হয়েছি। আনিসুল হক সাহেবের কিছু বন্দু বান্ধব ঢাকায় সাংবাদিক তারা ফেইস বুকে ষ্টেটাস দিয়ে বলেন একজন মানুষ অসুস্থ তার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। ঐ সব সাংবাদিকদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ দয়া করে ফালতু কথা বলবেননা। আনিসুল হকের পরিবার থেকে বলা হচ্ছে তিনি শীঘ্রই সুস্থ হবেন। ঢাকা থেকে আমারও কিছু বন্ধু বান্ধব ফোন করেছিলেন উনার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য। আমি বলেছি ফালতু বিষয় নিয়ে কথা যেন কেউ না বলেন। যে সব সাংবাদিক ঢাকায় বসে ফেইস বুকে ষ্টেটাস দিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে চায় তাদের প্রতি আমার করুনা হয়।

ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র ডেইসী সরওয়ার আমার পূর্ব পরিচিত, ডেডইজী বলেছিলেন আনিসুল হক সাহেবকে দেখতে। এক বন্ধুকে বলেছিলাম দেখতে যাব। বন্ধু আনিসুল হক সাহেবের কাছের মানুষ। বন্ধু ছিলেন নিরুত্তর। কারন বন্ধু জানেন আনিসুল হক সাহেব কতটুকু অসুস্থ। কি তার রোগ? আমার বের করা যে এক মিনিটের ব্যাপার তা ও আামার এ বন্ধু ভালো করেই জানেন। বন্ধুর নীরবতা দেখে মনে হয়েছিল ডাল মে কুচ কালা হ্য!! বন্ধুর সাথে কথা বাড়াইনি। কথা বাড়াইনি ডেইজীর সাথে, পরবর্তীতে দেখলাম ডেইজী দেশের বিভিন্ন জায়গায় আনিসুল হক সাহেবের রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া চাইছেন মানুষের কাছে। ডেইজীর প্রতি শুভ কামানা থাকলো। আমি ভেবেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে আসার পর মেয়র নাটকের অবসান হবে। কিন্তু না তা হয়নি। মেয়র সাহেব যেখানে সিরীয়াস অসুস্থ সেখানে প্রধানমন্ত্রীর তো তাকে দেখতে যাওয়ার কথা? কিন্তু তিনি যাননি। একটি সুত্র থেকে শুনেছি মেয়র সাহেবের স্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন তার রোগের ব্যপারটি। এটিও কতটুকু সত্য জানিনা। তবে প্রধানমন্ত্রী যে ঢাকার দালাল সাংবাদিকদের ভাষায় অসুস্থ মেয়রকে দেখতে যাননি এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নোবেল পাচ্ছেন, আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। ঢাকার আকাশে বাতাসে খবর বেরিয়েছে সেটি। নোবেল কমিটি থেকে ফোন আসবে। তিনি কোন ফোনের কাছে থাকবেন সেটি নিয়েও নাকি নোবেল কমিটি চিন্তীত। তিনি শর্ট লিষ্টেড হচ্ছেন, তার নাম ঘোষনা করা হবে, নরওয়ে যাবেন। এক আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক লেখক লিখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি নোবেল পান তাহলে নোবেল সম্মানীত হবে! শেখ হাসিনা সম্মানীত হবেননা। লেখাটি পড়েছি আমি। ফেইস বুকের বদৌলতে। একজন চিকিৎসক সে কি অশিক্ষিত? মন্তব্য নিস্প্রোয়জন প্রিয় পাঠক, আরেকজন লিখেছেন তিনি নোবেল নিয়েই ফিরছেন। তবে নোবেলে বাধ সাধছেন ডঃ ইউনুস কারন ইউনুস সাহেবের এতই ক্ষমতা যে তিনি শেখ হাসিনার নোবেল শান্তী পুরস্কার আটকে দিতে পারেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্য থেকে আমার মোবাইল ফোন গরম হয়ে উঠে। কি ব্যাপার ভাই প্রধানমন্ত্রী কি আপনাদের সাথে কথা বলেছেন? কি কথা? বললেন মিডিয়ার সাথে বসেননি? বললাম না, বসলে তো শুনতেন। এক সময় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতাম হাইকমিশনের সাথে। প্রেস মিনিষ্টারের সাথে। আওয়ামীলীগ যুক্তরাজ্য কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে এখন আর বলিনা। কারন সময় নষ্ট। কে যে সত্য বলে আর কে যে মিথ্যা বলে বুঝা মশকিল। আওয়ামীলীগের এক নেতা আছেন তিনি ফোন করে বলবেন “ভাই সাংবাদিকদের মধ্যে আপনাকে প্রথম ফোন করলাম বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য“ অথচ এর আগে তিনি সবার সাথে কথা বলে ফেলেছেন আমি হয়তো সর্বশেষ ব্যাক্তি যার সাথে কথা বলছেন। আজ শনিবার সকালে এ লেখা লিখার আগে আমার এক আওয়ামী বন্ধু আমাকে ফোন করে বললেন সাংবাদিকদের সাথে একটি বৈঠক করার চেষ্টা যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ প্রস্তাব করেছিলেন সেটি শেষ মুহুর্তে নাকি ক্যান্সেল হয়েছে। সত্য কতটুকু জানিনা। জানতে চাইওনা। কারন মিথ্যা শুনতে শুনেতে আর ভালো লাগেনা। লন্ডনে এক মামলার রায়ে এক জাজ সাহেব আসামীকে বলেছিলেন কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা তোমি কি বুঝ? তোমি তো সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝনা। যারা রাজনীতি করে তারা পৃথিবীর সবাইকে ভাবে বোকা। ভাবতে ভাবতে এখন আমাকেও ভাবে বোকা। আমি যাবো কোথায়? অবশ্য মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী বলেছিলেন এমন এক সময় আসবে জ্ঞানীরা ভাসবে অশ্রু জলে আর মূর্খরা মাথার উপর ছড়ি ঘুরাবে

আরো গুজব হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে নাকি আইন সচিব এবং জেনারেল আকবর সহ আরো অতি-উৎসাহি লোকজন জোর পূর্বক ছুটিতে যাওয়ার জন্য সাইন করিয়েছেন? কতটুকু সত্য জানিনা। আইনমন্ত্রী বললেন বিচারপতির নাকি ক্যন্সার হয়েছে! মাননীয় আইনমন্ত্রী, মাননীয় সেতু মন্ত্রী সহ ডজন খানেক মন্ত্রী কেন বিচারপতির বাসায় যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আমার মাথায় ঢুকেনা। আইনমন্ত্রী বিচারপতির বাসায় গিয়ে কি বেআইনী কাজ করেছেন মাননীয় প্রধানমনস্ত্রী? ক্যান্সার যদি হয় বিচারপতির তাহলে ডাক্তারদের রিপোর্টই তো তা বলবে, আইনমন্ত্রী বলছেন কেন? আইনমন্ত্রীকে একটি কথা আমার বলতে ইচ্ছে করছে ঐ যে ডঃ কামাল হোসেন সাহেব এটর্নী জেনারেলকে বলেছিলেন—————।

প্রিয় পাঠক সর্বশেষ যে গুজবটি লন্ডনের আকাশ বাতাসকে ভারী করে তুলেছে সেটি হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি ম্যডাম জিয়ার সাথে ফোনে কথা বলেছেন। একটি আপোষ মিমাংসা নাকি হতে চলছে। কারন দেশের যে অবস্থা তাতে নাকি প্রধানমন্ত্রী শংকিত। তৃতীয় শক্তি যদি চলে আসে তাহলে আবারও বড় রকমের ওয়ান ইলেভেনের আশংকা করছেন অনেকেই। অতএব সময় থাকতেই দুই নেত্রীকে নাকি ঐক্যবদ্ধ ভাবে সেটি মোকাবেলা করতে হবে। তাহলে কি তারেক জিয়া সাহেব দেশে চলে যাবেন? তারেক জিয়া সাহেব যদি দেশে চলে যান তাহলে তো তিনি নির্ঘাত দেশ নায়ক হয়ে যাবেন। তিনি হয়ে যাবেন নেলসেন মেন্ডেলা। তাহলে দেশ এতদিন যেখানে ডিজিটাল বাবার আন্ডারে ছিল এখন আবার হয়ে যাবে খাম্বা বাবার আন্ডারে।

লেখক: সভাপতি ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব, সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলা স্টেটমেন্ট ডট কম ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যানেল আই ইউরোপ।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীর জন্য লন্ডনে দোয়া মাহফিল

photo ঔষধ প্রশাসনের ভূমিকা নিতান্ত বাড়াবাড়ি ও বিরক্তিকর লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃলন্ডন, ২৭ শে মে বুধবার লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস মুভমেন্ট ইউকে’র উদ্যোগে গত বুধবার ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী’র আরোগ্য কামনায় এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । রাইটস মুভমেন্ট ইউ কে’র আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ এর সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment