আজ : ০৭:৪২, মে ২৫ , ২০১৮, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫
শিরোনাম :

সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে দেশনেত্রীকে বন্দী রেখেছে: মির্জা ফখরুল


আপডেট:০৪:১৩, এপ্রিল ২১ , ২০১৮
photo

ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং হিংসাত্মকভাবে জেলে রেখেছে এই সরকার বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমরা তার মুক্তি চেয়েছি। এ মুক্তি তার প্রাপ্য। তাছাড়া এ মামলায় যেকোন মানুষই জামিন পেতে পারে। কিন্তু সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে দেশনেত্রীকে কারাগারে বন্দী রেখেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হলেই কেবল নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচন তখনই হবে, যখন দেশে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে। নির্বাচন তখনই হবে, যখন খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেন এবং আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। নির্বাচন তখনই হবে, যখন দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে।

শনিবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ফখরুল এ কথা বলেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি তাদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, ‘সারাদেশে সরকার একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বন্দুক দিয়ে সবকিছু দমন করতে চাইছে। বিরোধী দলকে কোথাও সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। গতকাল নড়াইলে জেলা বিএনপির সভাপতির বাসায় নেতাকর্মীরা বৈঠক করার সময় হঠাৎ পুলিশ এসে বিনা কারণে বাসা ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কোথাও বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। দিনের পর দিন এমন চলছে। যেদিন থেকে এই সরকার ক্ষমতা দখল করেছে সেদিন থেকে।’

ব্রিটেনে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘খুবই ভালো খবর। পত্রিকায় দেখলাম দুজনের করমর্দনের ছবি। কিন্তু রানি কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের রানি করমর্দন করছেন যে দেশে জনগণের স্বাধীনতা নেই। যে দেশে একটি দলের ক্ষমতায় থাকার জন্য অন্যসব দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যে দেশের গণতান্ত্রিক নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।’

সরকারের পররাষ্ট্রনীতি চরমভাবে ব্যর্থ দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এসব করে লাভ কী? দশ লাখ রোহিঙ্গা এলো অথচ একজনও এখন পর্যন্ত ফেরত নেয়নি বার্মা। ভারতের সঙ্গে নাকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু এখনো তো বর্ডারে আমাদের দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে। তিস্তার পানির হিস্যা এখনও আদায় করতে পারেনি সরকার। এরা পারবেও না। কারণ এরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারে আছেন। তিনি তো সুখে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি কেন এমন করছেন? গণতন্ত্রের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। এখনো করে যাচ্ছেন। ৭২ বছর বয়সে তাকে নির্মন ও নির্দয় জীবন কাটাতে হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘গত ১৮ তারিখ আমরা চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলাম, কিন্তু ফিরে আসছি। গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গেছেন কিন্তু দেখা করতে দেয়া হয়নি। গত দশ দিন ধরে চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরিবার এবং দলের কারো কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তার জামিন প্রলম্বিত করছে। এখন তার চিকিৎসাও বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ জামিন তার প্রাপ্য।’

খালেদা জিয়া অসুস্থ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলতে চাই, আপনারা অবিলম্বে অন্তত ‘দেশনেত্রীকে’ মুক্তি দিন, যেন তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়। তিনি নিজে যেভাবে চাইবেন সেভাবে চিকিৎসা হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, সংসদ ভেঙে দিন, ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ পদত্যাগ করুন। তাহলেই কেবল দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, আজকে দেখুন ব্যাংকগুলো তাসের ঘরের মতো যে কোনো সময়ে ভেঙে পড়বে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। দুর্নীতি লাগামহীন। কারও কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেখানে পারছে, যেমন করে পারছে লুট করে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

কোথাও কোনো নিরাপত্তা নেই অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব জায়গায় একটা চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। একটামাত্র কারণ এই সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার। আজকে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতান্ত্রিক সব ব্যবস্থাগুলোকে ধবংস করে দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাইছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে করমর্দন করছেন দেখলাম। তাতো হচ্ছে। কিন্তু আমরা ফলাফল কী দেখতে পাচ্ছি। ফলাফল দেখতে পাচ্ছি, মিয়ানমারের সঙ্গে এতো সুসম্পর্ক, এখন পর্যন্ত ১০ লাখের মধ্যে একজন রোহিঙ্গাকেও আপনারা ফেরত পাঠাতে পারেননি। ভারত এতো বড় বন্ধু, এখন নাকি সম্পর্কের সর্বোচ্চ স্তরে তারা অবস্থান করছে। সেই ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানির এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এখনও সীমান্তে আমাদের লোকজনকে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এরা (সরকার) আর (ক্ষমতায় থাকতে) পারবে না। পারবে না এজন্য যে, জনগণের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, প্রধান বক্তা ছিলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার।

আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, অ্যাডভোকেট হোসনে আরা আহসান, মাওলানা রুহুল আমিন, মো. সেলিম মাস্টার, কাজী জয়া আহমেদ, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুব জাগপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক তুহিন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক মো. মহসীন সরকার এবং পরিচালনা করেন নিজাম উদ্দিন সরকার।



সাম্প্রতিক খবর

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভেবে ভুয়া ফোনকলে ১৮ মিনিট কথোপকথন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন একটি ভুয়া ফোনকলকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফোন ভেবে ১৮ মিনিট ধরে আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ার দুই প্র্যাঙ্ক ভিডিও নির্মাতা ওই ফোনকল করেছিলেন। বরিস জনসনের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের অডিও তারা প্রকাশ করে দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment