আজ : ০৯:০৫, অক্টোবর ২২ , ২০২০, ৭ কার্তিক, ১৪২৭
শিরোনাম :

লায়ন এয়ারের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ফ্লাইট ম্যানুয়েল দেখছিলেন পাইলট


আপডেট:০৩:৩২, মার্চ ২১ , ২০১৯
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রার পর জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিমান। ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখেন। ওই ঘটনায় নিহত হয় ১৮৯ জন। ওই বিমান বিধ্বস্তের পর তদন্তকারীরা বলেছিলেন, এতে যুক্ত করা নতুন সুবিধা হিসেবে আকাশে ভেসে থাকার এক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে পেরে ওঠেননি পাইলটেরা। তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে এবার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানটি হঠাৎ করে পাইলটের নির্দেশনা মতো না চলে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিলো। কী কারণে বিমানটি এমন করছে তা বুঝতে পারছিলেন না পাইলটরা। এ ব্যাপারে জানতে তখন ফ্লাইট ম্যানুয়েল ঘাঁটছিলেন তারা। আর তার কয়েক মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

গত বছর লায়ন এয়ারের ম্যাক্স বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পাঁচ সপ্তাহের মাথায় (১০ মার্চ, ২০১৯) ইথিওপিয়ায় বিধ্বস্ত হয় বোয়িং ম্যাক্স সিরিজের আরও একটি বিমান। নতুন দুর্ঘটনার পর ম্যাক্স সিরিজের বিমান চলাচল বন্ধ রাখে বিভিন্ন দেশ। চাপের মুখে সারা বিশ্বে ম্যাক্স সিরিজের বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংও। এ পরিস্থিতিতেই লায়ন এয়ারের বিমানের ভয়েস রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সামনে নিয়ে এলো রয়টার্স। এতোদিন তা প্রকাশ না করা হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

লায়ন এয়ার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গত নভেম্বরে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই প্রতিবেদন সুত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, জাকার্তা থেকে উড্ডয়নের পর বিমানের প্রধান পাইলট লায়ন এয়ারের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। আর সহ-পাইলট রেডিও সামলাচ্ছিলেন। ফ্লাইট শুরুর দুই মিনিটের মাথায় সহ পাইলট জানান, ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। বিমানটি ৫ হাজার ফুট উচ্চতায় চালাতে চেয়েছিলেন পাইলট। সমস্যা ঠিক কী ছিল তা উল্লেখ করেননি সহ-পাইলট। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং-এ বাতাসের গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আর আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান পাইলটের ডিসপ্লেতে সমস্যা ছিল, সহ পাইলটের ডিসপ্লেতে নয়।

প্রধান পাইলট তখন সহ পাইলটকে বিমানের নির্দেশিকাপত্রটি দেখতে বলেন, সেখানে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বলা আছে। পরবর্তী ৯ মিনিটে পাইলটরা বুঝতে পারেন, বিমানটি স্থির হয়ে আছে এবং নিচের দিকে মুখ করে আছে। সাধারণত বিমানের পাখায় যদি বাতাসের প্রবাহ কম থাকে তখন বিমানটি উড়তে পারে না এবং স্থির হয়ে যায়। পাইলট বিমানটিকে ঊর্ধ্বমুখী করার চেষ্টা করেন, তবে পারছিলেন না।

বিমানের ট্রিম সিস্টেমও কাজ করছিলো না। সাধারণত ট্রিম সিস্টেম বিমানকে সোজা রাখতে সহায়তা করে। তৃতীয় এক সুত্র রযটার্সকে বলেন, ‘তারা (পাইলটরা) সম্ভবত বুঝতে পারেননি ট্রিম সিস্টেম নিচের দিকে যাচ্ছে। তারা শুধু বাতাসের গতি আর উচ্চতা নিয়েই ভাবছিলেন। শুধু এগুলো নিয়েই কথা বলতে শোনা গেছে তাদের।

বোয়িং ম্যাক্স সিরিজের বিমানের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অন্য পাইলটদেরও অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ইউএস এয়ারলাইন্সের দুই পাইলট নাসার একটি ডাটাবেজে স্বেচ্ছামূলকভাবে নিরাপত্তা প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে তাদের ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান আচমকা নিচের দিকে নেমে এসেছিল বলে তাদের মনে হয়েছে। ওই পাইলটদ্বয় আরও জানান, ম্যাক্স ৮ বিমানের অটোপাইলটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা বিমানকে আবার ঊর্ধ্বমুখী করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দুই ক্ষেত্রেই তারা অটোপাইলটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর পরই নিজেদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পেরেছিলেন। নাসার ওই ডাটাবেজে দুই পাইলটের নাম,এয়ারলাইন্স কোম্পানির নাম এবং দুর্ঘটনাস্থলের কথা প্রকাশ করা হয়নি। ওই দুই পাইলটের জবানবন্দির পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান কর্তৃপক্ষ কিংবা তাদের এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বোয়িং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল কিনা সে ব্যাপারেও জানা যায়নি।



সাম্প্রতিক খবর

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে লণ্ডনে ভয়েস ফর জাস্টিস ইউকের মানব বন্ধন

photo কে এম আবুতাহের চৌধুরী : সিলেট শহরের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ নামক একজন যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ভয়েস ফর জাস্টিস ইউকের উদ্যোগে ১৪ ই অক্টোবর বুধবার পূর্ব লণ্ডনের আলতাব আলী পার্কে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।সংগঠণের নেতা কে এম আবুতাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ শফিক খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন -সাবেক ডেপুটি মেয়র

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment