আজ : ১১:৩৮, সেপ্টেম্বর ২০ , ২০১৯, ৫ আশ্বিন, ১৪২৬
শিরোনাম :

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুনত্বের প্রত্যাশা


আপডেট:১০:৩৪, ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৯
photo

মুজতাহিদ ফারুকী:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবার ভারত সফর করেছেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে পরপর তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই ছিল প্রথম বিদেশ সফর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠকে যোগ দিতে গত বুধবার দিল্লি যান। ফেরেন শনিবার। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশে চীন-ভারতের প্রভাব-বলয় নতুনভাবে বিনস্ত হয়ে চলেছে। সম্পর্কের একটি ত্রিভুজ ক্ষেত্রে স্বার্থের বিন্দুগুলো জায়গা বদল করছে। যে আওয়ামী লীগ বরাবরই ভারতের সমর্থন নিয়ে পথ হেঁটেছে, সে এখন উন্নয়নের স্বার্থে চীনের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন সরকারে মন্ত্রী হিসেবে যাদের বেছে নিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, হাসিনা এখন চীনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দারিদ্র্যবিমোচনে একসাথে কাজ করার লক্ষ্যেই এই সম্পর্ক এবং তাতে ভারতও শামিল আছে। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড বা বেল্ট অ্যান্ড রোড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমর্থন দেয়া নিয়ে তিনি ভারতকে কেবল যে আশ্বস্ত করেছেন তাই নয়, বরং এই উদ্যোগে ‘ভারতেরও যোগ দেয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশের সামনে এখন চীনের বিপুল অঙ্কের নগদ বিনিয়োগের সম্ভাবনার হাতছানি। আর চীনের চাওয়া হলো, আমেরিকার প্রভাব প্রতিহত করা। এই একই লক্ষ্যে ভারতের সাথেও হাত মেলাতে পারে চীন। শোনা যায়, ‘আমেরিকা ঠেকাও’ মিশনের অংশ হিসেবেই চীন ও ভারত মিলে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে মদদ দিয়েছে। আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো এখানে একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগ্রহী ছিল। সেটা হতে পারেনি।

আর এটা তো সবারই জানা যে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের রোলমডেল’ হিসেবে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারতকে যা দিয়েছি তা তারা সারাজীবন মনে রাখবে। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষায়, প্রতিবেশী এ দুই দেশের সম্পর্কের এখন ‘সোনালি অধ্যায়’ রচিত হয়েছে।

এই পশ্চাৎপটের নিরিখেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করলেন। ১৯৯৬ সালের আগে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে মাত্রা ছিল, এর পরিবর্তন হয়েছে মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই। গঙ্গার পানিবণ্টনে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি, ট্রানজিট-করিডোর, সীমান্ত সমস্যার সমাধান, ইত্যাদি যে কখনো হওয়া সম্ভব, আগে সেটিই ছিল চিন্তার অতীত। সেটা হয়েছে এবং সেটাই এখন এক জ্বলন্ত বাস্তবতা। এ বিষয়গুলো যেকোনো বিচারে শেখ হাসিনার শাসনকালের ‘সেরা সাফল্য’ হিসেবে সব সময় বিবেচিত হবে। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় যে পুরস্কার তিনি দিয়েছেন, সেটি হলো সে দেশের উগ্রপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাহার। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় ও সমর্থনদান বন্ধ করেছে। এর ফলে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষায় যে স্বস্তি এবং ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে তা শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকে দিয়ে কখনো সম্ভব হতো কি না সন্দেহ। একটি দুর্বিনীত ঘোড়াকে বশ মানাতে হলে ভালোবাসা দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করাই যে সেরা কৌশল তা তো সর্বস্বীকৃত। আর সেই ঘোড়া যদি হয় ভারতের মতো একটি বলদর্পী সুবিশাল অস্তিত্ব, তাহলে তো কথাই নেই। সুতরাং শেখ হাসিনার সাফল্যকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। সব মিলিয়ে নরেন্দ্র মোদি ঠিকই বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ চলছে।

কিন্তু এত কিছুর পরও দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে দৃশ্যমান টানাপড়েন রয়েই গেছে। এগুলো হলো- তিস্তার পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আসামে নাগরিকত্ব নির্ধারণের শুমারিতে (এনআরসি) ৪০ লাখ মানুষকে বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা। এ তিনটি প্রধান সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করছে তিস্তার পানি এবং রোহিঙ্গা ইস্যু।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবার সফরে গিয়ে তিস্তার পানির কথা তেমন জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন বলে মনে হয় না। তিনি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস নিয়ে খোশমেজাজে চলে এসেছেন। অথচ তার সফরের মূল এজেন্ডা হবে তিস্তার পানি- এমনটাই সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছিল। এর পরিবর্তে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের কাছে নতুন প্রস্তাব পেশ করেছেন ড. মোমেন। বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে একটি সেফ জোন বা নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরুপদ্রব বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়া হোক। ভারত যেন এই প্রস্তাব মিয়ানমারের কাছে উপস্থাপন করে, সেই অনুরোধও তিনি করেছেন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। বোঝা যাচ্ছে, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় নয়, বরং রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভারতের কাছে নতুন প্রস্তাব পেশ করাই ছিল মন্ত্রীর এবারের সফরের মূল এজেন্ডা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার বিষয়টিই ছিল তার এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ‘নিরাপদ এলাকা’ তৈরি করে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ওই এলাকায় রোহিঙ্গারা নির্ভয়ে, নিরাপদে, টেকসই জীবন নির্বাহ করতে পারছেন কি না, তা দেখভালের দায়িত্ব নিতে পারে মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত, চীন ও আসিয়ান সদস্যভুক্ত দেশগুলো।তিনি বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই নতুন প্রস্তাবটিকে একটি ‘উদ্ভাবনমূলক’ ভাবনা বলে মন্তব্য করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর গুরুভার বহন করা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি অসহনীয় চাপ। তা ছাড়া, এর সাথে শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হলে এ অঞ্চলে উগ্রবাদ ও অনিশ্চয়তা বিস্তার লাভ করতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তিনি বলেছেন, ভারত প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। অবশ্য এ বিষয়ে আমাদের কিছুটা সংশয়ের কারণ আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এর আগে আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারত বা চীন কোনো দেশই বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেনি; বরং দুই দেশেরই ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। কারণ, রাখাইনে চীন ও ভারত উভয়েরই আলাদা আলাদা স্বার্থ জড়িত। বাংলাদেশ যে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে, তার পেছনে চীন-ভারতের কোনো ইঙ্গিত আছে কি না, তা সময়ে বোঝা যাবে। আমরা দেখছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন রাখাইনে একটি সেফ জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করছেন, সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নেয়ার জন্য নাম প্রস্তাব করেছেন ভারত, চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর। এখানে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা, এমনকি জাতিসঙ্ঘের কোনো ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়নি। সম্ভবত চীন-ভারত যেমনটি পছন্দ করবে, তেমন করেই প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে তা কার্যকর প্রভাব সৃষ্টি করবে না এবং রোহিঙ্গারাও তাতে আশ্বস্ত হবে বলে মনে হয় না। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কাছে তা কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।

এবারের জেসিসি বৈঠকে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, কানেক্টিভিটি, সংস্কৃতি ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন সমুদ্র অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ ব্যবস্থাপনা, ইলেকট্রনিকস, তথ্যপ্রযুক্তি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ শক্তির মতো নতুন ও উচ্চমাত্রার কারিগরি ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হওয়ায় বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ, ওষুধ শিল্প ও দুর্নীতি দমনে সহযোগিতা এবং মংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগসংক্রান্ত চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ১৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে ভারত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সহযোগিতা দেবে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। আর মংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা দেবে ভারতের হীরানন্দনী গ্রুপ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর কতটা সফল হলো, তা বোঝা যাবে এই সফরে তিনি যে প্রস্তাব করেছেন এবং যেসব বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, সেগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে তার ওপর। বৃহৎ প্রতিবেশী এবং বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আমরা ভারতের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন দেখতে চাই। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে স্বকীয়তা বজায় রেখে চলতে পারবে কি না কিংবা এ দেশের মানুষ নিজেদের রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ও সুযোগ পাবে কি না তা নির্ভর করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নাক গলানোর প্রবণতার অবসান ঘটে কি না তার ওপর। এ নিরিখেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন রূপে বিকশিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

লন্ডনে অমুসলিমদের নিয়ে ব্যাতিক্রমী ডিনার পার্টি

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লন্ডন মুসলিম সেন্টারে বিভিন্ন পেশাদারি অমসুলিমদের নিয়ে একটি সুন্দর সন্ধ্যায় একটি সংলাপ, ইসলাম প্রদশনী ও ডিনারের আয়োজন করা হয়। ইসলাম এওয়ার্নেস প্রজেক্ট আয়োজিত লন্ডনের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, চার্চের প্রিস্ট, মিডিয়া কর্মী সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত প্রায় চারশত অমুসলিমদের উপস্থিতিতে এই

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment