আজ : ০৭:৩০, অক্টোবর ১৪ , ২০১৯, ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬
শিরোনাম :

কর্মকৌশল তৈরির উদ্যোগ বিএনপির


আপাতত সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন নয় * দল পুনর্গঠন, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির তথ্য তুলে ধরা এবং জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে কর্মসূচি * দল ও জোটের নেতা এবং সুশীল সমাজের মতামত নেয়া হবে * সিটি ও উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ না নিতে তৃ

আপডেট:০৬:০৭, জানুয়ারি ২৮ , ২০১৯
photo

হাবিবুর রহমান খান: প্রতিষ্ঠার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছে বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না থাকা, সিনিয়রসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নামে মামলাসহ নানাবিধ কারণে ক্রান্তিকালের মুখোমুখি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি।

এ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে ঘুরে দাঁড়াতে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল প্রণয়নে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে বেশকিছু বিষয়ে শিগগিরই দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সুশীলসমাজসহ বিশিষ্টজনের মতামত নেয়া হবে। পাশাপাশি জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

সূত্র জানায়, যেসব বিষয় সামনে রেখে এই কর্মকৌশল তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- আপাতত সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে দল পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা ও দলের ঐক্য আরও মজবুত করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামারও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান কর্মকৌশলে এ বিষয়টি থাকছে না। দল পুনর্গঠন ও জনসম্পৃক্ত ইসু্যুতে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পর এ ইস্যুতে মাঠে নামতে চান তারা। এদিকে আসন্ন সিটি ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় কোনো নেতা যাতে স্বতন্ত্রভাবে অংশ না নেন, সেজন্য কেন্দ্র থেকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হতে পারে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে নেয়া হতে পারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা এসব করছে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে সরকার দেশে একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে চায়। কিন্তু চাইলেই বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। অতীতেও এ দলটিকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্ত সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঠিকই বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অতিক্রম করে বিএনপি ‘ফিনিক্স পাখির মতো’ জেগে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। আমরা শুরুতেই দল পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিয়েছি। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। সরকারের ভোট ডাকাতিসহ জনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে জাতির সামনে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ মুহূর্তে দলটিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট ‘রণকৌশল’ নিয়ে এগোতে হবে। নাহলে দলটিকে আরও কঠিন মাশুল দিতে হবে। জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপিকে এখন ঠাণ্ডা মাথায় চলমান সংকট মোকাবেলা করতে হবে।

সতর্কভাবে সামনে পা ফেলতে হবে। আমি মনে করি, বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। তাই চলমান ‘ক্রাইসিসকে’ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। থেমে থাকলে চলবে না। তাদের প্রথম কাজ হবে দ্রুত কাউন্সিল করা। প্রতিটি কমিটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচিত করা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, জানি না। তবে তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণেই দলটিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। জাফরুল্লাহ আরও বলেন, দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি সরকারের ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধেও তাদের সোচ্চার হতে হবে। এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকরা প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি এ লক্ষ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে আপাতত নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা রেখে দল পুনর্গঠনের দিকেই গুরুত্ব দেয়া হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির নেতারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তৃণমূলসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকর্মী হতাশার মধ্যে রয়েছেন। মামলার কারণে তারা আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

দলের প্রাণ এসব নেতাকর্মীর মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিগত সময়ে হামলা-মামলায় জর্জরিত এসব নেতাকর্মীর পাশে থেকে সাহস দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে দশটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এসব কমিটি তৃণমূল সফর শুরু করেছে। তারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মামলা-হামলার তথ্যসহ সার্বিক পরিস্থিতি জানবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও তাদের মতামত নেয়া হবে।

আরও জানা গেছে, নতুন কৌশল চূড়ান্ত করার আগে বেশকিছু বিষয় গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন বিএনপির নীতির্নিধারকরা। বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলনের সফলতা ও ব্যর্থতা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পেছনে সরকারের কারচুপি ও অনিয়ম ছাড়াও দলীয় কোনো ভুল ছিল কি না, তা চিহ্নিত করা হবে। সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের চাঙা করার কৌশল হিসেবে এ মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে না দলটি। আপাতত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তবে নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা বিষয় সামনে রেখে বিভাগীয় ও জেলা শহরে সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। মামলা-হামলা এবং আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা যাতে স্বক্রিয় হতে পারে- সেদিক বিবেচনা করেই এসব কর্মসূচি নেয়া হবে। একই সঙ্গে কারাবন্দি দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে দলটি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমানে বিএনপি বিপর্যয়ে আছে, এটা মানতে আমি নারাজ। কারণ ৩০ ডিসেম্বর কলঙ্কজনক নির্বাচনের পর সারা জাতিই এখন বিপর্যয়ে আছে। জাতিকে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধারে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি অতীতেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

এজন্য আমরা কর্মকৌশল চূড়ান্ত করব। তিনি বলেন, বিএনপির একার পক্ষে এই জগদ্দল পাথরকে সরানো যাবে না। সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আপাতত জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারবিরোধী একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির পর বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি।

বিশেষ করে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করার জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভেঙে দেয়া হয়েছে বিএনপি কূটনৈতিক উইং। দক্ষ ও যোগ্যদের সমন্বয়ে দ্রুত এ উইং পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও দলের ঐক্যকে সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব গুছানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জোটকেও সক্রিয় করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি কারাগার থেকে খালেদা জিয়াও এমন বার্তা দিয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের ঐক্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে বলেছেন। কোনো কারণে জোটের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা ভাঙনের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন।

চেয়ারপারসনের এমন বার্তা পেয়ে দলের নীতিনির্ধারকারও কাজ শুরু করেছেন। শিগগিরই জোট নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তাদের মতামত নেয়া হবে।

জানতে চাইলে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, অতীত নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুলো বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো সময়ের ব্যাপার। কারণ দলটির সারা দেশে অসংখ্য কর্মী-সমর্থক রয়েছেন।

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বাংলা পোস্ট পত্রিকার ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ বুধবার ৯ অক্টোবর সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট পত্রিকার ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পত্রিকার কার্যালয়ে এক আনন্দ সভার আয়োজন করা হয়। বাংলা পোস্টের অনারারী চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মফিজুর রহমান ও ফাউন্ডার তাজ চৌধুরীর কেক কাটার মাধ্যমে আনন্দ সভার কাজ শূরু হয়। এসময় বাংলা পোস্ট পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শেখ মোঃ মফিজুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment