আজ : ০৩:৪৯, ডিসেম্বর ১২ , ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

এক বিকেলের হৃদয় ছোঁয়া স্মৃতি


আপডেট:১২:৩৯, ফেব্রুয়ারি ২০ , ২০১৭
photo

শিহাবুজ্জামান কামালঃ আমাদের জীবন নামের তরী সময়ের স্রোতে ভেসে চলেছে। বিরামহীন বয়ে যাওয়া সময় পেরিয়ে আমরা শুধু সামনে এগুচ্ছি। আর এভাবেই দিন পেরিয়ে রাত, রাত পেরিয়ে দিন আসছে। আসলে আমাদের জীবনটা জমাট বাধা বরফের মত। যা তিলে তিলে ক্ষয়ে যাচ্ছে। মানুষ পৃথিবীতে আসে এবং যখন সময় ফুরিয়ে যায় তখন পৃথিবীর সকল মায়া, মমতা, সুখ, সৌন্দর্য, আরাম, আয়েশ ত্যাগ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। কী বৈচিত্রে ভরপুর আমাদের জীবনের আঙ্গিনা। আমাদের অকপটে জমা থাকে হাজার স্মৃতি, হাজার ঘটনা। স্তপিকৃত জীবনের স্মৃতির ভেতর থেকে সহসা উঁকি মারে অনেক স্মৃতি। যা মনটাকে দারুন ভাবে ভাবিয়ে তোলে। তাই ফেলে আসা জীবন স্মৃতি নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা কবিতা, প্রবন্ধ ও স্মৃতিচারন মূলক কত কিছু লিখেন। আর আমার আজকের লিখার বিষয় ও এক বিকেলের কিছু সুন্দর স্মৃতি নিয়ে।

সেদিন এক ভায়ের অসুস্থার খবর শুনে তাঁকে লন্ডন হসপিটালে দেখতে যাই। সাথে ছিলেন আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক কে এম আবুতাহের চৌধুরী ভাই। হসপিটালে সেই ভাইকে দেখার পর যাওয়ার পথে তাহের ভাই বল্লেন, সময় থালে চল একজন অসুস্থ মহিলাকে দেখি আসি। তিনি পপলার এলাকায় থাকেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি একা বসবা্স করছেন এবং মহিলাকে দেখা শুনা করার মতও কেউ নেই। বেশ কয়েক বছর পূর্বে তিনি বিলেত এসেছিলেন কিন্তু বিসা জটিলতার কারণে দেশেও যেতে পারছেন না। মহিলার নানা কষ্টের কথা শুনে ব্যথিত হলাম। সেদিন বিকেলে কোন কাজ ছিলনা। ভাবলাম দেখি আসি সেই অসহায় মহিলাকে।

বিলেতের মত এই উন্নত দেশেও আমাদের চারপাশে দেয়াল বন্দী জীবনে কত মানুষ অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছেন। তাঁদের অনেকের কথা, তদের নানা অসুবিধা, অসহায়ত্বের খবর হয়তো অনেকে জানেনা। তারাও একসময় সমাজে নানা ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁদের সুন্দর সংসার ছিল। ছেলেমেয়ে, পরিবার, পরিজন ছিল। জীবনের সোনালী দিন গুলো কতই না সুন্দর, সুখের ছিল। কিন্তু নিয়তির চরম চপাটাঘাতে সেই সুন্দর, সোনালী দিন কোথায় যেন অকস্মাৎ হারিয়ে গেল। ফেলে আসা সেই দিনের হাজার স্মৃতি বুকে ধারন করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজ নিদারুন ভাবে কাতরাচ্ছেন।

আমরা কমার্শিয়াল রোড থেকে ১৫নং বাস দিয়ে পূর্ব লন্ডনস্থ ক্রিস্প ষ্ট্রীটে গিয়ে নামি। রাস্তার পাশেই বাসা। দরজায় কয়েকবার রিং করার পর জানালার ফাঁক দিয়ে মহিলা আমাদেরকে দেখে দরজা খুলে দিলেন। ঘরের ভেতর এবং বাইরের পরিবেশটা ও নীরব, নিঝুম। সিটিং রুমে লাইট জ্বলছে। বাইরে আধার ঘনিয়ে আসছে। আমরা সিটিং রুমে গিয়ে বসলাম। আমাকে দেখে মহিলা কিছুটা সঙ্কোচ বোধ করছিলেন এবং তাহের ভাইকে আমার ব্যাপারে জানতে চাইলে, তিনি বললেন আমার এক ছোট ভাই। আপনাকে দেখার জন্য নিয়ে এসেছি। তিনি একজন কবি ও সাংবাদিক এবং আমার নাম বললেন। কিন্তু আমি আশ্চর্য হলাম, আমার নাম বলার সাথে সাথে মহিলা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।বললেন আমি উনাকে চিনি। তার অনেক কবিতা, গান ও লেখা আমি পড়েছি। যে গুলো আমাকে দারুন ভাবে অবিভুত করেছে। আমার ভীষণ ইচ্ছা ছিল, কোন দিন যদি এই মানুষটাকে একবার দেখতাম। আমি আল্লাহপাকের দরবারে শোকর আদায় করছি, আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছাটা পূরণ করলেন। আমি মহিলার কথা শুনে দারুন আবেগ, আপ্লুত হয়ে যাই। কিন্ত যে জিনিসটি আমার মনে ভীষণ ভাবে দাগ কেটেছিল, সেটা হলো, উনাকে দেখে আমার আম্মার কথা মনে পড়লো। তার মতই আমার আম্মা ছিলেন। তার মতই ছোট ছোট পায়ে হাঁটতেন। সবসময় ঘোমটা পরে থাকেন। তিনি আমদেরকে প্রাণ ভরে সমাদর করলেন। নিজ হাতে চা, নাস্তা বানিয়ে খাওয়ালেন। বিশেষ করে তিনি আমাদেরকে একান্ত কাছে পেয়ে যে সম্মান ভালোবাসা দেখালেন, তা সত্যি কল্পনাতীত। তিনি তার অনেক কষ্টের কথা শুনালেন। অতিস্প্রতি তিনি দেশে তার এক সন্তানকে হারিয়েছেন। দেশে যাওয়ার কথা ছিল কিন্ত নানা অসুবিধা থাকায় যেতেও পারছেন না। ছেলের জন্য বার বার শুধু আর্তনাদ করছেন। তার কথা গুলো শুধু নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। তখন মাগরিবের ওয়াক্ত সমাগত। আমরা সেখানে নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে তাহের ভাই সবার জন্য দীর্ঘ মুনাজাত করলেন। মহিলা তখনও কাঁদছিলেন। হৃদয়টা ক্যামন যেন ব্যাকুল হয়ে উঠলো। নিজের অজান্তেই দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়াতে লাগলো। উনার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। কিন্তু বিদায় ক্ষনে তিনি তাহের ভায়ের হাতে কিছু হাদিয়া দিয়ে নেয়ার জন্য দারুন আকুতি জানালেন। অবশেষে বিদায়ের পালা। তিনি দরজায় দাড়িয়ে আমাদেরকে বিদায় জানালেন। পথ যেতে যেতে মায়ের বয়সী সেই মানুষটির কথাই মনে পড়েছিল। তিনি সেদিন আমাদেরকে নিজের ছেলের মতই আদর, ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন। তাই বার বার তখন আমার মায়ের কথাই মনে পড়ছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও তার অকৃতিম স্নেহ, ভালোবাসা ও হৃদয়তার পরম ছোঁয়ায় আমার হারানো মায়ের শত স্মৃতিই যেন স্মরণ করিয়ে দিল এবং আমার ভাবনার রাজ্যে মায়ের হাজার স্মৃতি গুলো আজ তুমুল ঝড় বইয়ে দিল।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

লন্ডন,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ইং



সাম্প্রতিক খবর

সাউন্ডটেক ক্যারাম ক্লাব ইউকে’র পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ঃ গত ৫ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনে সাউন্ডটেক ক্যারাম ক্লাব ইউকে’র স্থায়ী কার্যালয়ে বরাবরের মতো এবার বিপুল সংখক দর্শকদের উপস্থিতিতে ব্রিটেনের জনপ্রিয় ও প্রাচীন ক্যারাম ক্লাব “সাউন্ডটেক ক্যারাম ক্লাব ইউকে’র ডাবুল চ্যাম্পিয়ন ট্রপি ২০১৯” এর ফাইনাল খেলা ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয় l অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিনিটি

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment