আজ : ০১:০২, নভেম্বর ১৬ , ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬
শিরোনাম :

প্রসঙ্গ সুবীর ভৌমিক ও সাংবাদিকতার নামে দলীয় দালালী


“বঙ্গবন্ধু দুই দিন আগে মারা গেছেন, দুই দিন পর শেখ মনিই তাঁকে হত্যা করতো” ?

আপডেট:০১:২৭, সেপ্টেম্বর ২৯ , ২০১৭
photo

রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী সোয়েব।। এক) আজ চ্যানেল আই’র লন্ডন অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়েছি। গতরাতে বাসায় ফিরেছি তিনটায়। গাড়ীতে উঠে সিডি অন করতেই গান ভেসে উঠে। “খোলা আকাশকে, এত ভালো লাগতো, যদি কিছু কিছু মেঘ-তারা থাকতো” গানটি চমৎকার। গানটি আমাকে ভীষণভাবে টানে। বাংলাদেশে যখন ছিলাম তখন রাতের আকাশকে আমি দেখেছি। রাতের আকাশে হাঁজার হাঁজার তাঁরার মিলনমেলা বসতো। আমি অপলক দৃষ্টি নিয়ে আকাশের সৌন্দর্য্য, তারার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতাম। কে যেন বলেছিল, কষ্টের রং যদি নীল হয় তাহলে আকাশ নাকি স্বপন দেখায়! মাঝে মাঝে আকাশের রং-এর দিকে চেয়ে স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে পারিনা। দেখেছি তাঁরা আকাশ থেকে পড়ে যাচ্ছে। মুরুব্বীরা বলতেন, শয়তান আকাশে উঠার চেষ্টা করছে। অথচ লন্ডনের আকাশে লক্ষ লক্ষ তাঁরা নেই। কেন নেই আমি জানিনা। অনেকের কাছে জানতে চেয়েছি, কেউই সদুত্তর দিতে পারেনি।

আমার গাড়ী বাসার দিকে এগিয়ে চলছে। রাতের লন্ডনের গায়ে ফুটে উঠছে চাঁদের জোৎস্না। মন পাগল করা মৃদু বাতাস। কেমন যেন রোমান্টিক -রোমান্টিক মনে হয়। এরই মধ্যে ফোন বেজে উঠে। ড্রাইভিংএর সময় ফোন ধরা বেআইনী। পুলিশ ধরলে সিক্স পয়েণ্ট এবং জরিমানা। আমার অভ্যাস খারাপ ফোন ধরে ফেলি। হ্যালো, বললাম। কথা বলেনা। লাইন কেঁটে দেই। আবারও বাজে। ধরে বললাম, কথা যদি না বলেন, তাহলে ডিষ্টার্ব করছেন কেন? কথা ভেসে উঠলো। মহিলার ভয়েস। কেমন আছেন? ভালো ! আপনি কে বলছেন ? বল্‌ অচিন পাখি। বুঝলাম কৃষ্ণ পিরীতি করতে চায়। বললাম, এমনিতেই স্ত্রীর কাছে ধরা। তার উপর অচিন পাখি। চেনা পাখি নিয়ে আছি বিপদে। দয়া করে ফোনটি রেখে কেটে পড়েন। বললাম স্ত্রী যদি শুনে আপনি অচিন পাখি তাহলে আপনার,জায়গা অপারেশন করে ফেলবে সাথে আমাকেও। আমার স্ত্রী পেশায় ডাক্তার। মহিলা বলে “আমি আপনাকে ভালোবাসি“। মনে মনে বলি, ভালোবাসার ঘরের ভালোবাসা। আর না ভালোবাসা। এমনিতেই বাঁচিনা। আরো ভালোবাসা। দেশ থেকে ফিরে একটি লেখায় সিলেট এয়ারপোর্টের এক সুন্দরী রমনীর কথা লিখেছিলাম এখনো কৈফিয়ত দিচ্ছি। হয়তো সারাজীবন দিতে হবে।

(দুই) প্রিয় পাঠক ২০০৭ অথবা ২০০৮ সালের কথা। পাকিস্তানের বেনজীর ভুট্রো মারা গেছেন। আমি তখন ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের মর্ডান জার্নালিজমের জনক নাঈমুল ইসলাম খান সাহেবের পত্রিকা দৈনিক আমাদের সময়ের লন্ডন প্রতিনিধি এবং চ্যানেল আই ইউরোপের চীফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। স্মৃতি যদি আমার সাথে প্রতারনা না করে, তাহলে খুব সম্ভবত বঙ্গবন্ধুর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারী মরহুম আমিনুল হক বাদশাহ ভাইয়ের ফোন আসে। বাদশাহ ভাই সুদর্শন ছিলেন। ছিলেন স্মার্ট। আমি তাকে পছন্দ করতাম। তবে তাকে অনেক জ্বালা যন্ত্রনা দিয়েছি আমি। বাদশাহ ভাই প্রায়ই বলতেন, অমুখ (!) আমার জন্য পাগল ছিল। আমার কাছে বিয়ে বসতে চাইছে ইত্যাদি। একদিন আমি বলেছিলাম, অমুখ আসলে জিজ্ঞাস করবো, বলেছিলেন করিস। তারপর অমুখ লন্ডনে আসলেন বলেছিলাম বাদশাহ ভাই জিজ্ঞাস করবো? বলেন, কি বলছিস? বেটা মার খাওয়াবি? মৃত্যুর আগে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে পারিনি। তিনি চলে গেলেন সব ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

বাদশা ভাইর ফোন ধরতেই বললেন ফয়সল চৌধুরী শোয়েব আগামীকাল লন্ডনের ক্যফেগ্রীল রেষ্টুরেন্টে একটি মিটিং ডেকেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাহিত্যিক অমর একুশে গানের রচিয়তা আব্দুল গাফফার চৌধুরী। তুমি আসবে। তোমার ক্যামেরা ও রিপোর্টারকে পাঠাবে। বললাম, বাদশাহ ভাই ক্যমেরা যাবে ,আমি যেতে পারবোনা। বাদশাহ ভাইর ধমক। বেটা কথা না বুঝার আগেই না করে দিলে। গাফফার ভাই ডেকেছেন মিটিং। উপমহাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন। জিজ্ঞাসা করি পারভীন সুলতানা আসবেন। আরেকটি ধমক, বললেন পারভীন আসবে কি-না সেটা দিয়ে কি করবে?। বললেন শুন চলে এসো। অনেক দিন দেখা হয়নি তোমার সাথে। বাদশাহ ভাইর আন্তরিকতাপূর্ণ নিমন্ত্রন রক্ষা করার জন্য তাৎক্ষনিক আমি আমার রিপোর্টার শাহরিয়ার অয়নকে বললাম। অয়নকে এও বললাম আমিও যাবো মিটিংএ। তোমি আমাকে নিয়ে যাবে। যেই কথা সেই কাজ।

পরেরদিন গেলাম মিটিংএ। গিয়ে দেখি লন্ডনের সাংবাদিক সমাজের অনেকেইে উপস্থিত। উপস্থিত ছিলেন আজিজ ভাই যিনি পরবর্তীতে দেশ টিভি ইউকের ডিরেক্টর ছিলেন। ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামলীগের সুদর্শন পুরুষ মরহুম মোস্তাক কোরেশী, ছিলেন আবুল হাশেম, সুলতান শরীফ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট ইসহাক কাঁজল ভাই সহ অনেকেই। পারভীন আপা নোট নিচ্ছেন। পারভীন আপা গাফফার ভাইর জন্য কাজ করতেন। সব সময় গাফফার ভাইর সাথে থাকতেন। খুবই ভালো একজন মহিলা। ইদানিং হজ্ব করেছেন। গাফফার ভাই খুবই স্নেহ ¯ করেন পারভীন আপাকে। এখনো পারভীন আপাকে দেখলে গাফফার ভাই অট্র হাঁসিতে ফেটে পড়েন। প্রত্যেকটি মানুষের কিছু জায়গা থাকে, ভালো লাগার মানুষ থাকে। সে যাক, সেটি অন্য প্রসঙ্গ।

তো গাফফার ভাই বক্তব্য রাখছেন তো রাখছেনই। গান্ধীজী থেকে শুরু করে জুলফিকার আলী ভুট্রো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সবার হত্যাকান্ড নিয়ে কথা বললেন। হঠাৎ বলে উঠেন “বঙ্গবন্ধু দুইদিন আগে মারা গেছেন দুইদিন পরে শেখ মনিই তাকে হত্যা করতো। আমি কথা শুনে চমকে উঠি। বলি, এ কি বলছেন গাফফার ভাই? গাফফার ভাই বললেন, এ তথ্য তাকে দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এ বি এম মুসা। আমি বললাম নিউজ করবো? গাফফার ভাই বললেন নিউজ পাঠাও ঢাকায় আমি কি কাউকে ভয় পাই নাকি! আমি দৈনিক আমাদের সময়ে নিউজ পাঠালাম। “বঙ্গবন্ধু দুইদিন আগে মারা গেছেন দুইদিন পরে শেখ মনিই তাকে হত্যা করতো, লন্ডনে আব্দুল গাফফার চৌধুরী“। নাঈম ভাই বললেন তিনি ( গাফফার চৌধুরী) কি একথা বলেছেন ? আমি বললাম হ্যাঁ বলেছেন। নাঈম ভাই বললেন তোমার কাছে কি কোনো এভিডেন্স আছে। আমি মনে মনে বলি এখানে এভিডেন্সের প্রয়োজন কি. লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সব সাংবাদিকের সামনে তিনি বলেছেন। বিভিন্ন কথার পর নাঈম ভাই বললেন আমি কিন্তু নিউজ ছেড়ে দিচ্ছি। বললাম আল্লাহ ভরসা। পরেরদিন নিউজ আসলো। ইন্টারনেটে নিউজ চলে এসেছে। গাফফার ভাইকে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড থেকে তিরস্কার করা হলো। তিনি মনঃক্ষুন্ন। আমাকে অনেকেই বললেন, এ নিউজ কেন পাঠাতে গেলাম। আমাদের সময়ে তখন কাজ করতেন দুলাল আহমদ চৌধুুরী। দুলাল ভাই বললেন, কি ভাই কি একটা নিউজ পাঠাইছেন , গাফফার ভাই লন্ডন থেকে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন, তিনি বলেছেন আপনি নাকি বিকৃত করে নিউজ পাঠিয়েছেন। বিশাল প্রতিবাদ। নাঈম ভাই গাফফার ভাইর প্রতিবাদ ছেপে দিলেন। আমি পড়ে দেখলাম আমার সাংবাদিকতা জীবনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন গাফফার ভাই। আমি মিথ্যাবাদী। আমি হুবহু নিউজ করিনি। তথ্য ঠিক-না। গাফফার ভাইর প্রতিবাদের নীচে লিখে দেয়া হলো এ ব্যাপারে লন্ডন প্রতিনিধি ফয়সল চৌধুরী শীঘ্রই ব্যাখ্যা দিবেন। আমি কি ব্যাখ্যা দিব? আমার কাছে কোনো রেকর্ডেড এভিডেন্স নেই। আমার মন তখন ভীষণ খারাপ। কি জবাব দিব নাঈম ভাইকে। কারন নাঈম ভাই আমাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করেন, স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। আমি তখন লন্ডন থেকে যা পাঠাই তাইই তিনি গুরুত্ব সহকারে ছেপে দিতেন। সারাদিন কোনো কিছু করতে ভালো লাগেনি।

বিকেলে চ্যানেল আই ইউরোপের অফিসে গেলাম। রিপোর্টার শাহরিয়ার অয়ন আমায় জিজ্ঞাসা করে, স্যার আপনার কি মন খারাপ? বলি হ্যা। জানতে পারি কেন? বললাম গাফফার ভাই যে কথাগুলো বলেছেন ঐ দিনের মিটিং এ, তো এখন বলছেন তিনি এভাবে বলেননি। তুমি যে ফুটেজ নিয়েছিলে কত সময়ের ফুটেজ ছিল। অয়ন বলে নিউজের জন্য ৫/৭ মিনিটের ফুটেজ। বললাম ফুটেজ দেখাও। অয়ন মিনি ক্যাসেট কেপচার করছে আর আমার দিকে অসহায়ের মত থাকাচ্ছে। জিজ্ঞাস করি এভাবে থাকিয়ে আছ কেন? বলে স্যার পুরো বক্তব্যই সম্ভবত রেকোর্ড হয়েছে, আমি বলি বলস কি? বলে হ্যা। ক্যাসেট দেখলাম গাফফার ভাইর সেই বক্তব্য। আমার মনটা মুহুর্তের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আমি ক্যাসেট থেকে কয়েকটি সিডি বের করে ঢাকায় আমাদের সময়ের অফিসে পাঠিয়ে দেই। তখন নাঈম ভাই গাফফার ভাইর পুরো বক্তব্য হুবহু ট্রান্সক্রাইভ করে ছেপে দিয়েছিলেন।

প্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো ভাবছেন.. কলকাতার সাংবাদিক সুবির ভৌমিকের হেডিং এর সাথে গাফফার ভাইর রেফরেন্স কেন নিয়ে এসেছি। আপনারা সবাই অবগত আছেন যে কলকাতার এক নামকরা সাংবাদিক সুবির ভৌমিক। আমি ভদ্রলোকের নাম অনেক শুনেছি। কিন্তু তিনি যে এভাবে লিখেন বা লিখবেন অথবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মেরে ফেলার বেইসলেস সংবাদ ফলাও করে প্রচার করবেন আমি তা কল্পনাও করিনি। আমি সাংবাদিকদের খুবই শ্রদ্ধা করি, শ্রদ্ধা করে কথা বলতে চাই। যেহেতু আমি সমান পেশায় রয়েছি। শুধু সাংবাদিক সমাজ না সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে শ্রদ্ধা রেখে কথা বলা উচিৎ। মতের সাথে অমিল থাকতেই পারে। সুবীরদা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার কথা বলে তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি বলেছেন ঘাস কেটে সাংবাদিক হইনি।

সুবীর দা আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনি ঘাস কেটে সাংবাদিক হয়েছেন কি-না- আমি জানিনা। তবে উর্দূ ভাষায় না বলে বাংলায় বলি, অনেকেই চুল কেটে সাংবাদিক হয়েছেন!! প্রিয় পাঠক আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। এই চুল কাটা সাংবাদিকরা বিএনপি ক্ষমতায় আসলে একুশে টিভি বন্ধ করেন, আওয়ামলীগ ক্ষমতায় আসলে “আমার দেশ“ “চ্যানেল ওয়ান“ বন্ধ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আমার পরম শ্রদ্ধেয় শফিক রেহমান সাহেব সাংবাদিক নেতা হন, কিন্তু একৃুশে টিভি বন্ধ হলে শফিক ভাইর কোনো ভূমিকা থাকেনা। সাগর রুনি মারা গেলে ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাহেবের কোনো ভূমিকা থাকেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন বেডরুম পাহারা দেয়া তার দায়িত্ব না।

পীর হাবিব জাঁদরেল সাংবাদিক, জ্বালাময়ী লেখক। আমার পরিচিত। লন্ডনেই পরিচয় হয়েছিল ভদ্রলোকের সাথে। আমি তার লেখা পড়ি। অত্যন্ত সাহসী লেখক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হত্যার লেখাটি পড়ে আমি কষ্ট পেয়েছি। কারন পীর হাবিব আর যাই করেন তিনি চামচামী করতে পারেননা। পীর হাবিব আপোষ করতে পারেননা। আমি জানিনা একটি সময়ে নাকি অনেকেই আপোষ করে ফেলে বিবেকের কাছে। সমাজের কাছে, পরিবারের কাছে ! রাষ্টের কাছে। বয়সের কাছে। এক নেতাকে আমি চিনি তিনি বলেছিলেন সারা জীবন কমিউনিষ্ট পার্টি করে কি পেলাম? আমারও মাঝে মধ্যে ফ্রাস্টেশন আসে, বিপ্লব করে কি পেলাম। সাংবাদিকতা করে কি পেলাম। কোনো দলের চামচামী করলে হয়তো অনেক কিছুই পেয়ে যেতাম। লন্ডনের বাঙালী কমিউনিটির সাধারন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। তবে সমালোচকরা বলে উনি কি বুঝেন। বিএনপি আওয়ামলীগের কিছু সংখ্যক নেতা কর্মীরা পিছনে বলে কি, বুঝেন ফয়সল চৌধুরী আর কি লিখেন, আর টক শো কি উপস্থাপনা করেন। বয়স ৫০ আর কয়দিন বাঁচবো, যা বলেছি যা লিখেছি সবই সত্য। এখানে কোনো মিথ্যার বসতি স্থাপন করিনি। মৃত্যুর পরে হয়তো একটি কথা বলতে পারবো আল্লাহর আরঁশের সামনে দাঁড়িয়ে হে আল্লাহ্ আমি পাবলিকের কোনো ক্ষতি করিনি। আমি আওয়ামীলীগের চামচামী করিনি, আমি বিএনপির চামচামী করিনি। আমি হারাম খাইনি। ব্যাংক থেকে লোন নেইনি। কোনো অসৎ কাজ করিনি। জীবন চালাতে কষ্ট হয়েছে।

সে যাক, মোজাম্মেল বাবু সাহেবকে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত একটি অনলাইনে বলা হয়েছে তিনি ভালো সাংবাদিক না। অথবা একাত্তর টিভি নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আমি সে সবে যেতে চাইনা। মোজাম্মেল বাবু ভাইর নামের সাথে আমার পরিচয় অনেক আগের। দৈনিক আমাদের সময়ে তিনি কলাম লিখতেন। ভালো সাংবাদিক নিঃসন্দেহে। বছর দুয়েক আগে তিনি লন্ডনে এসেছিলেন তাকে নিয়ে আমার টক শো ষ্ট্রেইট ডায়লগে বসেছিলাম। অনেক কিছুই তিনি বলেছিলেন। তবে ইদানিং একাত্তর টিভি নিয়ে বেশ বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আমি জানিনা বাবু ভাই সাংবাদিকতার নীতিমালা থেকে দুরে সরে যাচ্ছেন কি-না? আমি চাইনা বাবু ভাই নীতির কাছে আপোষ করুন। আমি টেলিভিশন চালাতে না পারলে কাল বন্ধ করে চলে আসবো। তবে ঐ পার্টি আর সেই পার্টিকে সাপোর্ট করে নিজের সততা , নীতি ও নৈতিকতার কাছে পরাজয় বরন করবো কেন? মানুষ সাংবাদিকদের কাছ থেকে অনেক কিছুই আশা করে। আমি মোজাম্মেল বাবু ভাইর কাছ থেকে অনেক কিছুই প্রত্যাশা করি।

প্রধানমন্ত্রীর হত্যা কান্ড নিয়ে যে নিউজ প্রকাশ করা হয়েছে তা অবশ্যই দন্ডনীয় অপরাধ। একটি দেশের একটি রাষ্টের সর্ব্বোচ্চ ব্যাক্তিকে নিয়ে নিউজ করবেন সেই নিউজের কোনো সত্য ভিত্তি থাকবেনা , তা তো হয়না। গাফফার ভাই যে বক্তব্য রেখেছিলেন আমার কাছে যদি এভিডেন্স না থাকতো তাহলে আমি একটা ফালতু সাংবাদিক হিসেবে গন্য হতাম। অতএব যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, ফালতুমী না করে ফালতু কথা না বলে সুস্থ সাংবাদকিতা করুন। দলীয় আনুগত্য প্রকাশ না করে জাতীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করুন। আর কলকাতার সুবীর দার কাছে অনুরোধ। দয়া করে দাদা আপনার চরকায় তৈল দেন। বাংলাদেশে অনেক সাংবাদিক রয়েছেন। আর এখন দেশের বাইরেও বাংলাদেশীদের বিরাট এক জনগোষ্টী গড়ে উঠেছে। সেখানে ও সাংবাদিক ও কলামিষ্ট গড়ে উঠেছে। ওরা অনেক কিছুই বুঝে। ওরাও আপনার মত ঘাস কেটে সাংবাদিক হয়নি। টেমসকে পুঁজি করে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছে, তবে তারা কখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ফালতু বেইস লেস নিউজ করেনা।

লেখক: সভাপতি ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব, সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলা স্টেটমেন্ট ডট কম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যানেল আই ইউরোপ।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

Posted in মতামত


সাম্প্রতিক খবর

বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত শায়মা জামানের এক্সিবিশন

photo স্পেশাল রিপোর্টারঃ লন্ডনের বৃটিশ সাইন্স মিউজিয়ামের উদ্যোগে ' ডিফরেন্স বিলিভ এন্ড ডিফরেন্স রিলিজন ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক মানের এক প্রতিযোগিতায় একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ মেয়ে শায়মা জামান উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় তিন বছর নানা বাছাই পর্বের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়। ছয়টি ক্যাটাগিরিতে এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে ধর্ম, বিশ্বাস ও সফলতা। শায়মা জামানের বিষয় ছিল, ইসলাম,

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment