আজ : ০৫:২৭, জানুয়ারি ২৪ , ২০২০, ১০ মাঘ, ১৪২৬
শিরোনাম :

কন্ঠশিল্পী শ্যামা সরকার গানের ভূবনে এক গুপ্তধন!!


আপডেট:১২:৩৬, জুন ৭ , ২০১৬
photo

জামাল জাহেদ সাক্ষাতকার গ্রহনে ককসবাজার থেকেঃ অসম্ভব একটা আকুতি মেয়েটির কন্ঠে,গানের স্বর যেনো ভিন্ন স্বাদের নতুনত্বে ভরা গায়কী রুপ।বলতে পারেন আধুনিক সময়ের ভরাট গলার মায়াবী নারী শিল্পী, গানের এক অদ্বিতীয় পাখি শ্যামা সরকার। তরুনী মেয়েটি দেখতে অপরূপা আর এটিএন বাংলার উপমহাদেশের কিংবদন্তী সংগীত জগতের বিশ্ববিখ্যাত বহুমুখী নারী প্রতিভা রুনা লায়লার ৫০বছর সংগীত জীবন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্টানে গান পরিবেশন করে যিনি নজর কেড়ে নেন।

তিনি হলেন,বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত সংগীত প্রতিভা এসময়ের নজরুলগীতি, আধুনিক ও ফোক গানের হাস্যময়ী সঙ্গীত শিল্পী শ্যামা সরকার।অল্প সময়ে যার ঝুলিতে অসংখ্য সংগীত প্রতিভার পুরস্কার সহ দেশে বিদেশের নানা প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা এক রত্নপাল ।যদিও শান্ত স্বভাবের আর ভদ্র নম্র বিনয়ী স্বভাবের এই নারী শিল্পী অনেকটা প্রচার বিমুখ বলতে পারেন।

এক নজরে যদি আমরা দেখে আসি তার সংগীত জগতের কিছু মুহুর্ত তবে বুঝবে পাঠক সত্যিই শ্যামা সরকার সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নয় বরং শ্রোতার মন জয় করার জন্য গান করেন।গানের মাধ্যমে তিনি অর্জন করে নেন এপার-ওপার দুই বাংলার শ্রোতাদের ভালোবাসা আর সংগীত প্রেমিদের চাহিদা। মেধাবী, সাবলীল বাচনভঙ্গী, জড়তাহীন গানের উচ্চারণ আর উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব গুনে শ্যামা সরকার মিডিয়ায় পদযাত্রা অনেকটা সৌখিনতা বিহীন গানের রাজ্যে এক পাখি। ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে পড়া অবস্থায় গানের হাতেগড়ি, আর প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ উদিচী শিল্পী গোষ্টি ৯২সালের চ্যাম্পিয়ন,ছায়ানট সাহিত্য সাঃস্কৃতিক দল পুরস্কার ৯২/৯৩/৯৪সনের টানা চ্যাম্পিয়নস।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে ৯৪/৯৫সালের শ্রেষ্ঠ সংগীত প্রতিভা,জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ১৯৯৫/১৯৯৬ইং সালের টানা চ্যাম্পিয়ন হন। মিডিয়া জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলদেশ আয়োজিত রবীন্দ্র নজরুল জম্ম জয়ন্তী ১৪১৭ বর্ষসেরা সম্মাননা। সংগীতে অবদানের জন্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সম্মাননা ২০১০ ভূষিত হনন। এছাড়াও ভারতের আলিপুরে সবচেয়ে বড় সংগীত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা কমপেটিটিভ কালচারাল প্রোগাম ২০০১সালে চ্যাম্পিয়ন্স গৌরব অর্জন করে শ্যামা সরকার বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেন।এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগীত প্রতিযোগিতা ছাড়াও নজরুলজয়ন্তী অনুষ্ঠানে নজরুলগীতি পরিবেশন করে বিশিষ্ট নজরুল শিল্পী ফেরদৌসি রহমান,সৈয়দ, আবদুল্লাহ আল হাদী,হাসান মতিউর রহমান,রুনা লায়লার দৃষ্টি কাড়েন তিনি।

এটিএন বাংলার সংগীত প্রতিভায় সারা বাংলাদেশে সেরা ১৫তে গৌরবময় স্থান অর্জন করেন শ্যামা সরকার। বেশকিছু প্রতিযোগিতা আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে কিছুটা পরিচিত মুখ ও মিডিয়ার অনুরোধে নানা টেলিভিশনে কুইজ শো’,টিভি শো,নাটকে ও সংবাদ উপস্থাপনার সুযোগ পেলেও,বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রনালয়ে সংগীত পদে চাকরির ব্যস্ত সময়ে মিডিয়ায় পরিধি বাড়া সম্ভব হয়নি তার।

গান আর শ্রোতাকে ভালোবাসা অনেক সম্মানজনক একটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। মিডিয়া সংগীত জগতের যে কোন বড় ইভেন্টের অংশগ্রহন মানেই এখন শ্যামা সরকারের নাম অনায়াসে চলে আসে। বিগত চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল আই তে গান করে শ্রোতাদের মন জয় করেন।বহুমুখী কর্মদক্ষতার সঙ্গে স্মার্টনেস আর গ্ল্যামার প্রতিভা যদি থাকে, সে নারী কিংবা পুরুষ বিবেচ্য নয়, তার এগিয়ে যাওয়া কেউ ঠেকাতে পারে না।তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শ্যামা সরকার।গানের জগতের মানুষ বলে শ্যামা সরকার গানকে ভালোবাসে,সংগীত পদে সরকারী চাকরি নিয়ে বাংলাদেশের সব গানের পাখির পরিচর্যা করতে আগ্রহী এবং খুব আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন স্বর্ণ কন্ঠ খোজার ব্যস্ত মিশনে।

সংগীত শিল্পী শ্যামা সরকার ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে মেধাবী কৃতিত্বে এসএসসি পাশ করেন।পরে ময়মনসিংহ স্থানীয় কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ডিগ্রী সম্পন্ন পড়েছেন ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে। মহাবিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলায়, চ্যানেল আই,আরটিভিতে টিভি শো, স্টেজ শো শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শেষে সম্পৃক্ত হন সরকারী তথ্য মন্ত্রনালয়ে চাকরি নিয়ে এবং বর্তমানেও তথ্য মন্ত্রনালয়ে চাকরি করেন শ্যামা।

স্বপ্ন দেখেন একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, উদার-সহিষ্ণু এবং উন্নত বাংলাদেশের।নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা অনিচ্ছা,ক্যারিয়ার এবং সংগীতময় পরিকল্পনা নিয়েই কথা বলেছেন কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এই সংগীত প্রতিভা,সময়ের তরুণ সাংবাদিক ও লেখক জামাল জাহেদের সাথে।একান্ত আলাপচারিতার চুম্বকীয় কিছু অংশ পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

## কক্সবাজারে আসার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি, কেমন আছেন?

:ধন্যবাদ, ভালো আছি।

## আপনি কেমন আছেন?

-আমিও ভালো আছি। খুব ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে নিশ্চয়? কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

:হুমম ব্যস্ততাই স্বাভাবিক। সত্য কথা এটাই আমার মূলপেশা সংগীতকে ঘিরে । বর্তমানেও ককসবাজার তথ্যমন্ত্রণালয়ের জেলা তথ্য অফিসে কাছে আসা।সে সুবাধে সমুদ্র টা ঘুরে দেখা এ আর কি।

## কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সহ আর সামগ্রিকভাবে কক্সবাজারকে কেমন উপভোগ করলেন?

: অসাধারন কক্সবাজার সমুদ্রতট দেখার মতো বিচ,প্রানটা জুড়ে গেলো এমন উন্মুক্ত খোলা আকাশ, সমুদ্র,পাহাড় এক সাথে পৃথিবীর কোন জায়গায় নেই।এক কথায় অপূর্ব।

## কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন,সংগীত না চাকরি?

:সুর আমার প্রাণের জায়গা। প্রথমেই বলেছি, এটি আমার পেশা ও নেশা।স্কুল জীবন থেকে সুরের জগতে নিঃশ্বাস নেওয়া।সংগীত জগতটা অনেক ভালো লাগার জায়গা। সবকাজেই যত্ন থাকতে হয়। সত্যি বলতে, আমার বেলার চাকরি ও সংগীতে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। শ্রদ্ধা, সম্মান সবই পাচ্ছি।

## সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গা কোনটা আর মূলপেশা হিসেবে কোনটাকে বেছে নিবেন?

: আসলে আমার দুটো কাজেই একে অপরের সাথে জড়িত,কাজটা হলো সংগীতের পরিচর্চা সুতরাং দারুন এনজয় করি চাকরিটার সাথে সাথে নজরুলগীতি আর রবীন্দ্রচর্চা সহ ফোক গানের নানা ভেরিয়েশন।

## একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকেন।নারী পুরুষ এক সাথে কাজ করতে কোন সমস্যা হয় কিনা?

:এটি আসলে নারী-পুরুষ বলে কথা না। কেউ যদি কাজ করতে চায়, তাকে অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে। মানিয়ে নিতে যে পারবে না সে আসলে কাজ করতে পারবে না। কারণ কারো না কারো অধীনে তো কাজ করতেই হবে। যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যেতে না পারে ততোক্ষণ পর্যন্ত অন্যের নীতিতে তাকে চলতে হবে।সব মিলিয়ে সহকর্মীরা দারুন সহযোগিতা করে,তা অনেকটা সহজ।

## নারী শিল্পীদের সাথে আপনার প্রতিযোগিতা ও সম্পর্কটা কেমন?

: সবার সাথে ভালো সম্পর্ক আছে।বিশেষ করে আমাদের শিল্পীদের মাঝে একটি মৌন প্রতিযোগিতা কাজ করে। এবিষয়টি প্রত্যেকের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং নতুন নতুন চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি করে। এরপরও আমাদের মধ্যকার সম্পর্কটা দারুণ যায়। এই পরিবেশটা হয়তো অন্য কোন প্রফেশনাল এ দেখা যায়না।

## আপনি নিজেকে সংগীত শিল্পী হিসেবে ভাবেন, নাকি চাকরিজীবী নারী হিসাবে?

:একটা সময় ছিলো শুধু গান নিয়ে পড়ে থাকতাম,এখন আর সেটি নেই তার সাথে যোগ হয়েছে চাকরি। এখন অডিও-ভিজ্যুয়াল একটি মাধ্যম। শ্রোতারা এখন দুটো চায়,যেখানে শুনতেও হবে আবার দেখতেও হবে। লুকিং, এক্সপ্রেশন এবং ভোকালের ব্যাপার থাকে।নানা সময়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে স্টেজ শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হয় বলে সব ধরনের শ্রোতার কথা ভাবতে হয়।সব মিলিয়ে নিজেকে সংগীত শিল্পী ভাবতে লাগে।

## সারাদিনই তো বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। পরিবারকে কিভাবে সময় দেন? কাজ করতে গিয়ে পরিবার থেকে কতোটা সহযোগিতা পান?

:ব্যস্ততার ভেতরেই পরিবারকে সময় দেয়ার চেষ্টা করি। যেদিন ছুটি থাকে পরিবারের সাথে সময় কাটাই, ঘুরাঘুরি করি। আর পরিবারের সহযোগিতা আছে বলেই এতোটুকু করতে পেরেছি।নারীরা যখন একটু ভালো অবস্থানে যেতে চায়, তখন পুরুষের তুলনায় কঠিন কাজ করতে হয়। কেননা তাকে ঘরে-বাইরে দুটিই সামলাতে হয়। এটি পুরুষদের করতে হয় না। তারা একটা দিকেই মনোযোগ দিতে পারে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ। একদিকে কর্মস্থলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা, আবার অফিস শেষে সংসার,পরে সংগীততে এসব আসলে নিজের চেষ্টা আর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে।

##অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, সম্মান পাচ্ছেন সুতরাং আজকের অবস্থানে আসতে আপনি কাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে পেয়েছেন?

:অনুপ্রেরণা যদি বলেন মা বাবাকে পেয়েছি। এপর্যন্ত আসার পেছনে তারাই সবচেয়ে বেশি অনু্প্রেরণা যুগিয়েছেন ছোটকাল থেকে। আমাদের সমাজে সাধারণত প্রায় সব মেয়েদের ঘরেই রাখতে চায়, মেয়েরা রান্না-বান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাকে এসব নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়নি। বাবা-মা সবসময় পড়ালেখা করতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। গানে অনুপ্রেরনা আর আইডল কিংবদন্তি এশিয়ার সেরা প্রতিভাবান রুনা লায়লা।

## রাজনীতি নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কি?

:সত্যি বলতে, আমি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চাই না, এখান থেকে দূরে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি ছাড়া জনগনের জন্য কিছু করার চিন্তা কম।

## দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনটা কি দেখতে পাচ্ছেন?

:এদেশে ভালো কাজ করার অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। অনেক সম্ভাবনার একটি দেশ এটি। পরিবর্তন হচ্ছে। কিছু কাজও হচ্ছে। কিন্তু যে পরিমাণ ভালো কাজ হওয়ার কথা সে পরিমাণ হচ্ছে না। কারন সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বেশির ভাগ অকাজ হয়।

## মিডিয়াতে কি স্থায়ী কিছু করার চিন্তা আছে?

: না তবে সংগীত আর চাকরি নিয়ে সামনে এগিয়ে চাই।

## গানে প্রবেশের সমযটা কখন থেকে,ছোটবেলা পড়ার সময় গানের জন্য সমস্যায় পড়েনিতো?

: গানটা আমার ছোটবেলা থেকে করা হয়। আমার বয়স যখন চার; তখন থেকেই গান শুরু করি। গান করতে করতে একটি সময় কেটেছে। এইচএসসিতে উঠার পর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য এতো বেশি অফার আসছিল, পড়ালেখারই ক্ষতি হচ্ছিল। তখন বাবা বললেন, তুমি যদি এদিকে সময় বেশি দিয়ে ফেলো তাহলে তোমার পরীক্ষা খারাপ হবে। তোমাকে যেকোনো একটি জায়গা বেছে নিতে হবে। খুব মনেপড়ে বিষয়টি।

## গানের জগতে কোন একক এ্যালবাম বা যৌথ গানের মিক্সড এ্যালবাম করেছেন কি?

:গতবছরই আমার টার্গেট ছিলো একটি নজরুলগীতি অ্যালবাম বের করার। সেটি আর হয়নি। তবে একটি টার্গেট আছে আমার অন্তত একটি অ্যালবাম বের করবো। নজরুলগীতি, রবীন্দ্র সংগীত আর ফোক গান নিয়েই করা হবে সেটি।

## অবসর সসময়ে কি করে সময় কাটে?

: অবসরে বাসায় টিভি দেখে এবং গানন করে সময় কাটে তবে পরিবারের সাথেই বেশির ভাগ সময় ব্যয় করি।

## হাতে যদি আলা দিনের আশ্চর্য্য চেরাগ পান,কোন দিকটি পাল্টিয়ে দিবেন?

: যদি এ ধরনের সুযোগ পেতাম তবে সবার আগে মানুষের বিচিত্র মনকে পাল্টিয়ে দিতাম।যেখানে মানুষের মন পাল্টাবে সেখানে আর অন্যায় থাকতোনা।

## গানকে নিয়ে আপনার সুদূরপ্রসারী কোন পরিকল্পনা আছে কি?

:সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করাটা কঠিন। তবে যেহেতু চাকরি আর গান আমার মূল পেশা, এখান থেকেই আমি দিন দিন নিজের আপন ভুবন সৃষ্টি করতে চাই।তবে যতোদিন করা যায় করবো। মূলত দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার ইচ্ছা আমার।

## বর্তমানে গানের যে অবস্থা তার জন্য কাকে দায়ি করবেন?বেশ জনপ্রিয় হয়েও কোন গান বেশি দিন না ঠিবার কারনটা কি?

: সত্য বলতে কি, সুরকার গীতিকার বা গানের কলাকৌশলীরা কিছু শ্রোতার জন্য গান করে,সব প্রজম্মের জন্য করেনা।বাস্তবে মানুষের মনে আগের মতো মন কাড়ার উদাসীনতা হলো রিমিক্স আর মিউজিক কম্পোজিশন কাজ করে,কণ্ঠ কোন বিষয় না এখন।যন্ত্র গায়কী বেশ দখল করেছে গানের বাজার।যার কারনে হোছড় খাচ্ছে দেশের গানগুলো।তার জন্য আমরাই নিজেরাই দায়ী কারন শ্রোতাদের কি দোষ যারা গানের জড়িত তারাই দোষী।

## আজ থেকে ১৫বছর পর আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

:সেভাবে তো ভাবিনি। হ্যাঁ, এমন কিছু করতে চাই দেশের মানুষ যেন বলে ‘শ্যামা সরকারকে ভালো কিছু করেছে গানের জগতে। একটি অবস্থানে নিজেকে দেখতে চাই। সেটি যেভাবেই হোক না কেন, হোক গানে বা চাকরিতে কিংবা অন্য কোন ভালো দিকে।এমন অবস্থান চাই যুগ যুগান্তর যেনো মনে রাখে শ্রোতারা তাদের প্রিয় শিল্পীকে।

## বর্তমান প্রজন্মের জন্য আপনার সর্বশেষ পরামর্শ?

:এক্ষেত্রে তরুনদের খুব আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে। খুব সাহসী হতে হবে। সেই জায়গা থেকে অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যেই নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে। একটা মানুষের যদি সৎ একটি ইচ্ছা থাকে, আমার মনে হয় যে সে একদম চূড়ায় যদি উঠতে নাও পারে, অন্তত তার কাছাকাছি হলেও যেতে পারবে। আর একটু সতর্কটা অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট, কালচার এবিষয়গুলোকে মাথায় রেখে, যতোটুকু নিরাপদে রেখে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেভাবে কাজ করতে হবে।

## কখনো কি কারো প্রেমে পড়েছেন কলেজ কিংবা স্কুল জীবনী?

: হা হা হা হা সব মানুষেই কারো না কারো প্রেমে পড়ে তবে স্কুল জীবনে একজনকে পছন্দ হতো তবে আর বলা হয়নি।

## অনেক্ষন আমাকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি!!

: আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ সাথে পাঠকেদের ও।

সাক্ষাতকারে সাংবাদিক ও লেখক ঃ জামাল জাহেদ ককসবাজার।



সাম্প্রতিক খবর

বৃটেনে ইমিগ্রশন আইন শিথিল

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ : বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড বেতন দেওয়ার যে শর্ত রয়েছে, সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের জন্য সরকার যে অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, আয়ের ওই শর্ত তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment