আজ : ০৬:৩৬, ফেব্রুয়ারি ২১ , ২০১৮, ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪
শিরোনাম :

তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতো কিন্তু আজ নিজেরাই...


আপডেট:০৮:৪২, সেপ্টেম্বর ২২ , ২০১৭
photo

ঢাকা সংবাদদাতাঃ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশের মত সিরাজগঞ্জের দামাল সন্তান মুক্তিযোদ্ধারাও নানা কৌশল অবলম্বন করে পাক হানাদারদের পরাস্ত করতে ঐক্যবদ্ধ ছিল। আর এই কাজে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অনেক নারীরাও সহযোগিতা করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের।

যমুনা বিধৌত চৌহালী উপজেলার মালিপাড়ায় একটি ক্যাম্প ছিল পাক হানাদার বাহিনীর। এদের বিরুদ্ধে চোরা-গুপ্তা হামলা চালাতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপন একটি ক্যাম্প তৈরি করে স্থানীয় গোপিনাথপুর গ্রামের তৎকালীন ধর্মদাস সরকারের বাড়িতে। বিমান বাহিনী থেকে আসা ঘাটাইিলের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম ইকবাল ও মুক্তিযোদ্ধা রগুনাথ সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ৪০/৫০ জনের ওই টিমটি সেখানে ৭১-এর মে মাসের শেষের দিকে এসে জুন মাসের মাঝা-মাঝি পর্যন্ত অবস্থান করে। তখন গ্রামে প্রায় শ' খানেক হিন্দু পরিবার ছিল। তারাই এ গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করতো। আর এক মাত্র হাজী রশিদের পরিবারটিই ছিল গ্রামের মুসলমান।

সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে শুধু গ্রামের মানুষগুলোই অবহিত ছিল। আর তারাই অবস্থানকালীন সময় খাওয়া-পরা সহ সামগ্রিক সহযোগিতা করেছে ঐক্যবদ্ধভাবে। কৃষিজীবী পরিবারের এই মানুষ গুলো স্বাধীনতার স্বাদ পেতে সকল ভয়-ডর উপক্ষো করে আশ্রিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য প্রদানে ঐক্যবদ্ধ ছিল। তাদের ভরণ-পোষণে গ্রামের প্রধান ধর্মদাস সরকার, প্রাণবন্ধু সরকার, বাবুরাম সরকার, কলেজ ছাত্র সুধীর সরকার, রামপদ সরকার ছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা বাড়ি-বাড়ি থেকে চাল-ডাল তুলে তা দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে অন্তত দু'বেলা আহারের ব্যবস্থা করতো। কত দিন মুরগীর ব্যবস্থাও হতো। এ কাজে নিষ্ঠার সাথে রাঁধুনির দায়িত্ব ছিল অন্তত ১০/১৫ জন সনাতন নারী। এর মধ্যে মৃত বেনী মাধব সরকারের স্ত্রী শতবর্ষী খুকী বালা সরকার (১০০), মৃত কমল সরকারের স্ত্রী সবিতা রানী সরকার (৭৫) এবং মৃত সূর্য কান্ত সরকারের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী সরকার (৬৫)।

মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে ওই রাঁধুনিরা বলেন, 'আমাদের স্বামী ও গ্রাম প্রধানদের দেশাত্মবোধে আমরাও জাগ্রত ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে তারা অংশ নিতে না পেরে হতাশা বোধ করতাম। তাই গোপন ঘাঁটির মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা প্রাণপণে সহযোগিতা করেছি। তারা ওখানে থাকাকালীন গ্রামের পুরুষরা খোঁজ-খবর রাখতো। আর আমরা ছিলাম রান্নার দায়িত্বে। প্রতিদিনই অন্তত ২০ কেজি চাল-ডাল বাড়ি-বাড়ি থেকে গুছিয়ে খিচুড়ি রান্না করে দিতাম ধর্মদাস সরকারের বাড়িতে (বর্তমানে মৃত হাজী ছদের ব্যাপারীর বাড়ি) আশ্রয় নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের।' সেদিনের সেই অম্লান স্মৃতিচারণ করে তারা আরও বলেন, 'অনেক সময় তাড়া-হুড়ো করে রান্না করা খিচুড়ি নিতে গিয়ে শরীরে পড়ে গরম ছেঁকা খেতাম। প্রচণ্ড ব্যথা থাকতো কয়েক দিন। তার পরও আমরা দমাতাম না।'

এদিকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা পালনকারী এই বিধবা নারীরা এক সময় জমি-জমা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটলেও, এখন তাদের নানা অভাব তাড়া করে প্রতিক্ষণ। বৃদ্ধ হাতে তাঁত শ্রমিকের কাজ করে দু'বেলা খাবার জোটানোই মুশকিল। কোন রকমে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস। আর গায়ে জড়ানো স্বল্প মূল্যের একখানা সাদা শাড়ি দিয়েই চলে-বছরের পর বছর পার। কেউ খোঁজ নেন এই অসহায় বৃদ্ধাদের।

খিচুড়ি সহযোগিতার আরেক উদ্যোক্তা তখনকার গ্রামের তরুণ যুবক সুধীর চন্দ্র সরকার সে সময় বেলকুচি ডিগ্রী কলেজের প্রথম ব্যাচের ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে যিনি গ্রামের প্রবীণ সমাজ-সেবক। তিনি বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধাদের খিচুড়ি বণ্টন কাজে খুবই আনন্দ পেতাম। তারপর ভয়ও পেতাম। এরা এখানে গোপনে অবস্থান নিয়ে রশিদ ভাইয়ের নৌকা করে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মাঝে মাঝে মহড়া দিতো। তখন আমরা সাহস পেতাম। মনে হতো আমরাও মুক্তিযোদ্ধা।'

এদিকে চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গাজী আব্দুস ছাত্তার খলিফা জানান, অনেক দিন পর সেই দিনের কথা মনে পড়ে গেল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম ইকবালের ওই গুপ্ত টিম এলাকার মধ্যে পাক মিলিটারিদের ছিল আতঙ্ক। তারা গোপনে অবস্থান করে পাক বাহিনীকে ঘিরে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে তাদের পরাস্ত করতো। তবে গ্রামের আশ্রিত মুক্তিযোদ্ধাদের পুরো গ্রামবাসী মিলে যেভাবে সহযোগিতা করেছে তা কখনো ভোলার নয়। এ জন্য গোপিনাথপুর গ্রামবাসীর তথা খিচুড়ি রান্না করে দেয়া ওইসব নারীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।



সাম্প্রতিক খবর

আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে যুক্তরাজ্য বিএনপির শ্রদ্ধা

photo লন্ডনবিডিনিউজ২৪ : মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহাজ এম এ মালিক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা রাত ১২টা ১মিনিটে লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাফ আলী পার্কের শহীদ মিনারে পুস্পস্তপক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment